
8th Pay Commission: অষ্টম বেতন কমিশনের পরামর্শমূলক সভার আজ তৃতীয় ও শেষ দিন মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২২ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সভা আজ, ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এ শেষ হবে। এর আগে ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে কমিশন একটি বৈঠক করেছিল। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গঠিত এই কমিশনের কার্যক্রম দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এক বছর পূর্ণ করতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পেনশনভোগীরা এখনও সংশোধিত বেতন ও ভাতার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
গত কয়েক মাস ধরে, প্রধান কর্মচারী ইউনিয়নগুলো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’, মূল বেতন (বেসিক পে), ভাতা, পেনশন সংস্কার, ছুটির বিনিময়ে অর্থপ্রাপ্তি (লিভ এনক্যাশমেন্ট) এবং কর্মীদের মনোবল সংক্রান্ত বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও প্রস্তাব কমিশনের সামনে তুলে ধরেছে।
আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো মূল বেতন সংশোধনের প্রস্তাব; কারণ এটি কেবল মাসিক আয়কেই প্রভাবিত করে না, বরং পুরো কর্মজীবনে ইনক্রিমেন্ট, ভাতা এবং অবসরকালীন সুবিধাদির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। সরকারি চাকরিতে ২০ বছরের কর্মজীবনে একটি নির্দিষ্ট মূল বেতন কীভাবে একজন কর্মীর সামগ্রিক আয়কে প্রভাবিত করতে পারে, তা নিচে তুলে ধরা হলো।
মূল বেতন হলো একজন সরকারি কর্মচারীর বেতনের প্রধান অংশ, যার মধ্যে বিভিন্ন ভাতা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে না। এটি এমন একটি ভিত্তি, যার ওপর ভিত্তি করে নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং বাড়ি ভাড়া ভাতার (এইচআরএ) মতো অন্যান্য উপাদানগুলো গণনা করা হয়।
‘ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারী ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলো অষ্টম বেতন কমিশনের সামনে ন্যূনতম মূল বেতন ৬৯,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি, তারা ৩.৮৩৩ ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
দ্রুত বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে ‘ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সংঘ’ (BPMS) ন্যূনতম মূল বেতন ৭২,০০০ টাকা এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৪ করার প্রস্তাব দিয়েছে। উভয় ইউনিয়নই বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করার অনুরোধ জানিয়েছে। এই প্রস্তাবগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো, সরকারি কর্মচারীদের মুদ্রাস্ফীতির মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা। তবে বর্তমানে এগুলো কেবল দাবি হিসেবেই রয়েছে; বেতন সংশোধনের চূড়ান্ত অনুমোদন হিসেবে গণ্য নয়।
উচ্চতর মূল বেতন কীভাবে ২০ বছরের কর্মজীবনে একজন কর্মীর আয়কে প্রভাবিত করতে পারে? ব্যাঙ্কবাজার (BankBazaar)-এর সিইও অধিল শেঠি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, “কর্মজীবনের পুরো সময়জুড়ে মূল বেতনের (basic salary) পরিমাণ বেশি থাকলে তার একটি ক্রমবর্ধমান প্রভাব (compounding effect) পড়ে। সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (increment) মূল বেতনের ৩ শতাংশ হারে হয়ে থাকে; তাই শুরুর মূল বেতন বেশি হলে প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধির পরিমাণও বেশি হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ডিএ (DA) এবং এইচআরএ (HRA)-এর মতো ভাতাগুলোও মূল বেতনের ওপর নির্ভরশীল, যা সামগ্রিক আয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ২০ বছরের ব্যবধানে এই পার্থক্যের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া, সংশোধিত মূল বেতন বেশি হলে অবসরকালীন সুবিধাদি—যেমন পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং ছুটির বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ (leave encashment)—বেড়ে যায়, কারণ এগুলো সর্বশেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়।”
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত অষ্টম বেতন কমিশনের ৩ সদস্যের প্যানেলটি এখন পরামর্শ ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এই কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক পুলক ঘোষ এবং সদস্য-সচিব পঙ্কজ জৈন।
অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি কমিশন গঠনের ১৮ মাস পর—অর্থাৎ ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ—জমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (এটি কোনও সুনিশ্চিত তারিখ নয়)। কমিশন তাদের সুপারিশ জমা না দেওয়া পর্যন্ত এবং সরকার সেগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত, ইউনিয়নগুলোর উত্থাপিত সব দাবিকে কেবল ‘প্রস্তাব’ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।