
8th Pay Commission: অষ্টম বেতন কমিশন বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। বিশেষ করে, ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ কত হবে এবং জুনিয়র ও সিনিয়র কর্মচারীদের বেতনের উপর এর কতটা প্রভাব পড়বে, সেদিকেই সবাই নজর রাখছে। কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের জন্য জোরালো দাবি রয়েছে, যার ফলে বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বেতন কমিশনে, বেতন বৃদ্ধির মূল ভিত্তি হলো “ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর”। একটি নতুন মূল বেতন তৈরি করার জন্য বর্তমান মূল বেতনের সাথে একটি নির্দিষ্ট ফ্যাক্টর যোগ করা হয়। সপ্তম বেতন কমিশনে এই ফ্যাক্টরটি ছিল ২.৫৭। এখন অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য ২.৮৬ থেকে ৩.৮৩ পর্যন্ত ফ্যাক্টরের দাবি উঠছে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কর্মচারীর মূল বেতন ২০,০০০ টাকা হয় এবং ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তার নতুন মূল বেতন সরাসরি প্রায় ৭৬,৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ডিএ, এইচআরএ এবং অন্যান্য ভাতা আলাদাভাবে দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কমিশনের ফলে নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বড় স্বস্তি পেতে পারেন। কারণ বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই কর্মচারী সংগঠনগুলো ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম মূল মজুরি হলো ১৮,০০০ টাকা। কর্মচারী সংগঠনগুলো দাবি করেছে যে এটিকে সরাসরি বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করা হোক। এই দাবি মেনে নিলে জুনিয়র কর্মচারীদের প্রাপ্ত বেতন দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।
শুধু কনিষ্ঠ কর্মকর্তারাই নন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে পারেন। কারণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরটি সব স্তরেই প্রযোজ্য। তাই, যাদের মূল বেতন বেশি, তাদের বেতনের অঙ্কে বড় ধরনের বৃদ্ধি হতে পারে। তবে, শতাংশের হিসাবে কনিষ্ঠ কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পেতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, যদি ২ লক্ষ টাকা মূল বেতনের একজন কর্মকর্তার বেতন ৩.৮৩ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তবে তা ৭ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অবশ্যই, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি কমিশনের সুপারিশের উপর নির্ভর করবে।
২০১৬ সালে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হয়েছিল। তারপর থেকে বাড়ি ভাড়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন খরচে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। কর্মচারী সংগঠনগুলো দাবি করেছে যে বর্তমান বেতন কাঠামো অপর্যাপ্ত, কারণ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এই কারণে অষ্টম বেতন কমিশন থেকে একটি বড় বেতন বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।
নতুন বেতন কাঠামোতে শুধু মূল বেতনই বাড়বে না, বরং বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA), যাতায়াত ভাতা (TA) এবং অন্যান্য ভাতাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এই ভাতাগুলো মূল বেতনের সাথে যুক্ত। সুতরাং, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়লে মোট হাতে পাওয়া বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কিছু কর্মচারী সংগঠন বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) বাড়িয়ে অন্তত ৩০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে। এছাড়াও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অষ্টম বেতন কমিশনে ‘পারিবারিক একক’ নিয়মে পরিবর্তনের দাবিটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে একটি পরিবারকে ৩টি একক হিসেবে গণ্য করা হয়। কর্মচারী সংগঠনগুলো এটিকে বাড়িয়ে ৫টি একক করার প্রস্তাব দিয়েছে। এর ফলে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সময় পারিবারিক খরচ আরও বাস্তবসম্মতভাবে গণনা করা যাবে এবং এর প্রত্যক্ষ সুফল কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতেও দেখা যাবে।
বর্তমানে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও দপ্তরের পক্ষ থেকে বেতন কমিশনের কাছে দাবি-দাওয়া পাঠানো হচ্ছে। কমিশন বিভিন্ন রাজ্যে বৈঠক শুরু করেছে, যার পরে সুপারিশগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। তবে, ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুমোদিত হবে নাকি সরকার এর চেয়ে কম গুণক প্রয়োগ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্ত ফিটমেন্ট ২.৮৬ থেকে ৩.২৫-এর মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।