দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল নয়জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফকার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-ভিত্তিক একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই নেটওয়ার্কটির সঙ্গে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI) এবং মুম্বাইয়ের অপরাধ জগতের (underworld) কিছু অংশের যোগসাজশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল নয়জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফকার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-ভিত্তিক একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই নেটওয়ার্কটির সঙ্গে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI) এবং মুম্বাইয়ের অপরাধ জগতের (underworld) কিছু অংশের যোগসাজশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা দিল্লি, মুম্বাই এবং দেশের অন্যান্য প্রধান শহরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও নিরাপত্তা কর্মীদের উপর হামলার পরিকল্পনা করছিল।

তদন্তকারীদের মতে, এই দলটি সীমান্তের ওপারে অবস্থানরত 'হ্যান্ডলার' বা নির্দেশদাতাদের নির্দেশে কাজ করছিল। তাদের উপর আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট বা লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্পেশাল সেল অভিযান চালিয়ে দলটিকে ধরে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে অত্যাধুনিক পিস্তল, গ্রেনেড এবং অন্যান্য বস্তু রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, অভিযুক্তরা পাকিস্তান-সমর্থিত কিছু সক্রিয় সদস্যের (operatives) সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু বা হামলার স্থান সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে নির্দেশ পাচ্ছিল। কর্তারা সন্দেহ করছেন যে, এই দলটি (module) গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ধৃতরা দিল্লি, মহারাষ্ট্র এবং পাঞ্জাব-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা। এছাড়াও কয়েকজনও বিদেশি নাগরিকও রয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের সঙ্গে মুম্বাইয়ের অপরাধ জগতের কথিত যোগসূত্রের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ধারণা, এই নেটওয়ার্কটি তাদের রসদ সরবরাহ, ফান্ডিং এবং সক্রিয় সদস্যদের চলাচলের সুবিধার্থে অপরাধ জগতের চ্যানেল বা মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে থাকতে পারে। স্পেশাল সেল বর্তমানে এই দলটির আর্থিক লেনদেনের গতিপথ, যোগাযোগের রেকর্ড এবং এর সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর নেটওয়ার্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে যে, দেশের অন্য কোনও অংশে এই নেটওয়ার্কের আরও সক্রিয় সদস্য রয়েছে কি না এবং অভিযুক্তরা তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর উপর কোনও ধরনের নজরদারি বা রেইকি চালিয়েছিল কি না।
পুলিশ কর্তারা এই অভিযানকে একটি সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে একটি 'উল্লেখযোগ্য সাফল্য' হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ও এর কথিত আন্তঃসীমান্ত সংযোগগুলো খতিয়ে দেখছে। আশা করা হচ্ছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে।
