
8th Pay Commission: অষ্টম বেতন কমিশনের আলোচনার আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন বর্তমান ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করার প্রস্তাবটি অন্যতম আলোচিত দাবিতে পরিণত হয়েছে।
যদিও আলোচনার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রস্তাবিত ৩.৮৩৩ 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর' (fitment factor), তবে ৬৯,০০০ টাকার এই অঙ্কটি অনেক বেশি ব্যাপক এক বেতন-গণনা পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)-এর কর্মী-প্রতিনিধিরা ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বেশ কিছু মানদণ্ড বা ধারণা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি হলো, বিদ্যমান পদ্ধতিটি বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঠিক প্রতিফলন ঘটায় না।
একটিমাত্র মাপকাঠির ওপর নির্ভর না করে, এই প্রস্তাবে পরিবারের আকার, আবাসন, পুষ্টি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো একাধিক বিষয় বা উপাদান হালনাগাদ করে প্রয়োজন-ভিত্তিক জীবনধারণের উপযোগী বেতনের (living wage) হিসাব নতুন করে করা হয়েছে। নিচে ৬৯,০০০ টাকার দাবির পেছনের মূল হিসাবগুলো তুলে ধরা হলো।
NC-JCM-এর কর্মী-প্রতিনিধিদের জমা দেওয়া স্মারকলিপি অনুযায়ী, ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের বর্তমান কাঠামোটি একজন সরকারি কর্মীর সংসার চালানোর খরচকে আর যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে না। প্রস্তাবিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো প্রয়োজন-ভিত্তিক বেতন গণনার ক্ষেত্রে 'পারিবারিক একক' (family unit)-এর পরিধি বাড়ানো।
সপ্তম বেতন কমিশন তাদের হিসাবের ভিত্তি হিসেবে একটি তিন-ইউনিটের পরিবারকে ধরেছিল, যার মধ্যে ছিলেন কর্মী, জীবনসঙ্গী এবং দুটি সন্তান। কর্মী-পক্ষ এই সংখ্যা বাড়িয়ে পাঁচ-ইউনিটের পরিবার করার প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে নির্ভরশীল বাবা-মা এবং শ্বশুর-শাশুড়িকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কর্মী: ১ ইউনিট
জীবনসঙ্গী: ১ ইউনিট (আগে ছিল ০.৮ ইউনিট)
দুটি সন্তান: প্রতিটির জন্য ০.৮ ইউনিট (মোট ১.৬ ইউনিট)
নির্ভরশীল বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি: ০.৮ ইউনিট
এতে মোট দাঁড়ায় ৫.২ ইউনিট, যাকে ইউনিয়নগুলো বেতন গণনার সুবিধার্থে 'পাঁচ ইউনিট' হিসেবে ধরেছে।
পারিবারিক একক বা ইউনিট হলো সংশোধিত পদ্ধতির মাত্র একটি অংশ। NC-JCM ব্যয়ের এমন আরও কিছু মানদণ্ড পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ন্যূনতম বেতন গণনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে:
* খাদ্য ও পোশাকের ক্ষেত্রে 'ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ' (ICMR)-এর সাম্প্রতিক সুপারিশ অনুযায়ী দৈনিক ৩,৪৯০ ক্যালোরি গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
* আবাসন বাবদ ব্যয় আগের কাঠামোর ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে।
* জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও জলের খরচ মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
* দক্ষতা উন্নয়নের খরচ ২৫ শতাংশ ধরা হয়েছে।
* বিবাহ, বিনোদন, উৎসব এবং অন্যান্য সামাজিক দায়বদ্ধতা বা অনুষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ব্যয় ধরা হয়েছে।
* কর্মচারী প্রতিনিধিদের মতে, এই হিসাবগুলো একজন সাধারণ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর পরিবারের প্রকৃত ব্যয়ের ধরনকে আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত করে।
এই সংশোধিত হিসাবের ওপর ভিত্তি করে, NC-JCM-এর কর্মচারী প্রতিনিধিরা (Staff Side) গণনা করেছেন যে ন্যূনতম মাসিক মূল বেতন (basic pay) ৬৯,০০০ টাকা হওয়া উচিত।
যেহেতু বর্তমানে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা, তাই প্রস্তাবিত সংশোধনের ফলে 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর' দাঁড়ায় ৩.৮৩৩-এ। কর্মচারী সংগঠনটি সুপারিশ করেছে যে পেনশন সংশোধনের ক্ষেত্রেও যেন একই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হয়।
প্রস্তাবিত এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বহুল আলোচিত ২ থেকে ২.৫-এর সীমার চেয়ে অনেক বেশি; যদিও সরকার নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যার বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।
৬৯,০০০ টাকার ন্যূনতম বেতন এবং ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর—এগুলো মূলত কর্মচারী পক্ষের সুপারিশ। সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করার আগে অষ্টম বেতন কমিশন কর্মচারী ইউনিয়ন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত ও প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করবে।
কমিশন যদি এই সংশোধিত পদ্ধতির সম্পূর্ণ বা আংশিক অংশ গ্রহণ করে, তবে এর প্রভাব কেবল ন্যূনতম মূল বেতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেহেতু পুরো বেতন কাঠামোটি (pay matrix) ন্যূনতম বেতনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই এতে কোনও বৃদ্ধি ঘটলে তা সব স্তরের বেতনের ওপর ধারাবাহিক প্রভাব ফেলবে, যার ফলে মূল বেতন বাড়বে এবং সেই অনুযায়ী ভাতা ও পেনশনেরও সংশোধন হবে।