
8th Pay Commission: অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th CPC) ইতিমধ্যেই সুপারিশ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে ফেলেছে। চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশের আগে বিভিন্ন রাজ্য সফর করে কর্মচারী ইউনিয়ন, পেনশনভোগী সংগঠন, প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। বেতন, ভাতা, পেনশন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতামত সংগ্রহ করা হবে।
কমিশনের অফিসিয়াল পোর্টালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্য সফরের সময় বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, ফেডারেশন, পেনশনভোগী সংগঠন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তাঁদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও দাবি নিয়ে মতামত নেওয়ার পরই চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির দিকে এগোবে কমিশন।
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের একটি বড় অংশ তার আওতায় আসবেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী এর ফলে উপকৃত হতে পারেন। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও রেলওয়ের কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তরাও রয়েছেন।
১) অষ্টম সিপিসির ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ বা ToR-এ কমিশনের কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, পে-ম্যাট্রিক্স, বিভিন্ন ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করবে কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে মহার্ঘ ভাতা (DA), ডিয়ারনেস রিলিফ (DR), হাউস রেন্ট অ্যালাওয়েন্স (HRA), ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি-সহ বিভিন্ন সুবিধা। বর্তমান কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন এবং কর্মীদের বিশেষ চাহিদা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে।
২) কর্মদক্ষতা ও ইনসেনটিভেও নজর
সরকারি চাকরিতে দক্ষ ও মেধাবীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা, জবাবদিহি এবং দায়িত্ববোধ বাড়ানোর মতো পারিশ্রমিক কাঠামো তৈরির বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমান বোনাস ও ইনসেনটিভ ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হবে। উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে কর্মীদের উৎসাহিত করার জন্য উপযুক্ত ইনসেনটিভ ব্যবস্থার সাধারণ নীতি এবং আর্থিক মানদণ্ড নিয়ে সুপারিশ করতে পারে কমিশন।
৩) এ ছাড়া বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ভাতা এবং সেগুলি পাওয়ার শর্তও পর্যালোচনা করা হবে। ভাতার সংখ্যা বা ব্যবস্থার জটিলতা কমিয়ে সেগুলিকে আরও যুক্তিসঙ্গত করার বিষয়েও সুপারিশ করা হতে পারে।
৪) পেনশন ও গ্র্যাচুইটিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা করবে অষ্টম বেতন কমিশন। ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS), ইউনিফাইড পেনশন স্কিম (UPS)-এর আওতাভুক্ত কর্মীদের ‘ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট গ্র্যাচুইটি’ পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার কথা রয়েছে।
৫) একইসঙ্গে NPS বা UPS-এর আওতায় না থাকা কর্মীদের পেনশন এবং ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট গ্র্যাচুইটির বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে।
৬) ১৮ মাসের মধ্যে সুপারিশ
অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন একটি অস্থায়ী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। কমিশনে থাকবেন একজন চেয়ারপারসন, একজন পার্ট-টাইম সদস্য এবং একজন সদস্য-সচিব। কমিশনকে গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তার আগেও অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দিতে পারে কমিশন।
প্রদত্ত সময়সূচি অনুযায়ী, কমিশনের সুপারিশ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে এগিয়ে যাওয়ার কথা। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা এবং সুপারিশ কার্যকর হওয়ার সময় আলাদা বিষয়।
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রকাশের পরই যে সঙ্গে সঙ্গে বেতন কাঠামো পরিবর্তন হয়ে যাবে, এমনটা নয়। অতীতের প্রবণতা অনুযায়ী, সুপারিশ ঘোষণার পর তা বাস্তবায়নের জন্যও সময় লাগতে পারে।
তাই কমিশনের সুপারিশ প্রকাশ এবং বাস্তবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার মধ্যে ব্যবধান থাকতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ এবং তার পর সরকারের সিদ্ধান্ত।