
8th Pay Commission: অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনকে (8th Central Pay Commission) তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য গঠনের তারিখ থেকে ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে; তবে সরকার নিশ্চিত করেনি যে প্যানেলটি নির্ধারিত সময়সীমার আগেই তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে কি না।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা যখন বেতন, ভাতা এবং পেনশন সংক্রান্ত সুপারিশের অপেক্ষায় রয়েছেন, ঠিক তখনই সংসদে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হলো। ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে এই কমিশন গঠন করা হয়েছিল এবং বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই এর নেতৃত্বে রয়েছেন।
১০ আগস্ট লোকসভায় এক লিখিত জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান যে, কমিশন "গঠনের তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তাদের সুপারিশ পেশ করবে"। সরকার আরও জানিয়েছে যে, কমিশন এখনও তাদের সুপারিশ জমা দেয়নি।
অষ্টম বেতন কমিশনের (8th CPC) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিশন ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠিত হয়েছিল এবং প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় পেয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক সময়সীমাটি ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায়।
সংসদে দেওয়া সর্বশেষ জবাবে ১৮ মাসের সময়সীমার বাইরে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কোনও সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। রাজ্যসভাতেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল; সেখানে সাংসদ নীরজ শেখর জানতে চেয়েছিলেন যে, কমিশন নির্ধারিত ১৮ মাস সময়ের আগেই সুপারিশ জমা দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা করছে কি না।
জবাবে পঙ্কজ চৌধুরী আবারও ৩ নভেম্বর ২০২৫-এর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন এবং ১৮ মাসের সময়সীমার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন, তবে এর আগে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট তারিখের প্রতিশ্রুতি দেননি। এর অর্থ হলো, অষ্টম বেতন কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের কাজ শেষ করবে—এমন কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা বর্তমানে নেই। তবে মূল সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব বিষয়ে সুপারিশ আগেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে, সেসব ক্ষেত্রে কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিতে পারে।
কমিশনের সুপারিশগুলো ঠিক কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়েও সরকার এখনও কোনও ঘোষণা দেয়নি। লোকসভায় দেওয়া জবাবে চৌধুরী জানান যে, কমিশন এখনও সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়নি। প্রায় ৭০ লক্ষ বেসামরিক কর্মচারী ও পেনশনভোগী এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের বেসামরিক কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫.৭৭ লক্ষ। এছাড়া, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৩.৭৬ লক্ষ। পেনশনভোগীদের এই সংখ্যার মধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগের পেনশনভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
কমিশনের কার্যপরিধির অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বেতন পুনর্বিন্যাস, ভাতা, পেনশন, পারিবারিক পেনশন এবং চাকরির শর্তাবলি। কমিশন বর্তমানে পরামর্শ গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, ইউনিয়ন, পেনশনভোগী সমিতি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করছে।
কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার সময়সূচি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে জয়পুর, চেন্নাই, পুদুচেরি ও চণ্ডীগড়ে সফরের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি, গত ১১ আগস্ট কমিশন পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশিকায় আংশিক পরিবর্তন এনেছে। সংশোধিত শ্রেণিবিভাগের মধ্যে রয়েছে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, কনসালট্যান্ট এবং ইয়াং প্রফেশনাল—যাদের কাজের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মানবসম্পদ (HR), আইনি গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি (IT), ডেটা বিশ্লেষণ এবং ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন।
অষ্টম বেতন কমিশনের (8CPC) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্যের তালিকায় এই পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং, আপাতত সরকারের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর থেকে সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় পেয়েছে; তবে নির্ধারিত সময়সীমার আগেই তারা সুপারিশ জমা দেবে কি না, সে বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা নেই। বেতন ও পেনশনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনকে তাদের আলোচনা ও সুপারিশ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, যার জন্য কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের অপেক্ষা করতে হবে।