Baby Girl: ইংরেজ আমলে শেষবার মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) এক পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছিল। তারপর প্রায় ২০০ বছর এই পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি। এবার এই পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম হওয়ায় বাঁধভাঙা খুশি দেখা যাচ্ছে। পরিবারের সবাই এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখছেন।
KNOW
Maharashtra Baby Girl: মহারাষ্ট্রের বীড়ে (Beed) এক পরিবারে চার প্রজন্মের পর প্রথমবার কোনও কন্যাসন্তানের জন্ম হল। প্রায় ২০০ বছর পর পরিবারে কন্যাসন্তান আসায় উচ্ছ্বসিত সদস্যরা। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে গার্গী। তার জন্মের আনন্দে তাকে রথে চাপিয়ে বাদ্যযন্ত্র ও নাচ-গানের মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হল। গার্গীকে ঘিরে নজিরবিহীন আনন্দে মেতে উঠেছে পরিবার। অবশ্য শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, আত্মীয়-প্রতিবেশীরাও এই আনন্দে সামিল হয়েছেন। রীতিমতো রাজকীয় আয়োজন করে এই কন্যাসন্তানকে বাড়িতে স্বাগত জানানো হল। হাসপাতাল থেকে মা ও মেয়ে ছাড়া পাওয়ার পর ঢাক-ঢোল, ঝাঁঝর ও নাচের সঙ্গে রথে চড়িয়ে তাঁদের বাড়ি নিয়ে আসা হয়।
কন্যাসন্তানকে নিয়ে আবেগপ্রবণ পরিবার
দহিফালে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত চার প্রজন্ম ধরে তাঁদের পরিবারে কোনও কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি। এই কারণে গার্গীর আগমনকে ঘিরে পরিবারের আনন্দ ছিল বাঁধভাঙা। এই কন্যাসন্তানের ঠাকুর্দা লিম্বাজি দহিফালে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছেন, ‘পরিবারে কন্যাসন্তান আসা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। এত বছর ধরে আমাদের মনে আক্ষেপ ছিল যে পরিবারে কোনও মেয়ে নেই। আজ সেই আক্ষেপ পূরণ হয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, দুই পুত্রবধূকেই তিনি নিজের মেয়ের মতোই দেখেছেন। তবে বহু বছর পর পরিবারের ঘরে নাতনি আসায় আনন্দ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সেই আনন্দ থেকেই গার্গীকে বাদ্যযন্ত্র ও নাচের সঙ্গে রথে করে বাড়িতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গার্গীর ঠাকুমা সুরেখা দহিফালে জানান, হাসপাতালেই পরিবারের সদস্যরা নবজাতককে বিশেষভাবে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা খুবই খুশি। আজ আমাদের বাড়িতে লক্ষ্মী এসেছে।’ গার্গীর বাবার আনন্দও ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি বলেন, ‘সাধারণত মানুষ পুত্রসন্তানের কামনা করেন। কিন্তু কন্যাসন্তান হওয়ার অনুভূতি ও আনন্দ আলাদা। মেয়েরা বাবার সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ হয়। আমরা আমাদের মেয়েকে ফুলের মতো করে বড় করব।’
কন্যাসন্তানকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে খুশি সমাজকর্মীরা
নবজাতককে ঘিরে পরিবারের এই উদযাপন সমাজকর্মীদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছে। সমাজকর্মী অনন্ত ইংলে (Anant Ingle) বলেছেন, সমাজের কিছু অংশে এখনও কন্যাসন্তানের জন্ম নিয়ে সংকীর্ণ মানসিকতা রয়েছে। সেই জায়গায় দহিফালে পরিবারের এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


