
Punjab News: সরকারি স্কুলে শিক্ষকের অভাব নিয়ে প্রশ্নের তুলেছিলেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party) থেকে বহিষ্কৃত হলেন পাঞ্জাবের মৌরের বিধায়ক সুখবীর সিং মইসেরখানা (Maur MLA Sukhvir Singh Maiserkhana)। তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দল-বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় ১৪ মিনিটের একটি লাইভ ভিডিওতে নিজের বিধানসভা অঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষকের সঙ্কট নিয়ে সরব হন সুখবীর। ভিডিওতে তাঁকে আবেগপ্রবণ হয়ে বলতে শোনা যায়, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে এবং বিষয়টি তিনি বারবার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সরকারের কাছে জানিয়েছেন। এরপরেই পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক হরচন্দ সিং বরসাতের (Harchand Singh Barsat) পক্ষ থেকে সুখবীরকে চিঠি পাঠানো হয়। এই চিঠিতে দলবিরোধী কার্যকলাপ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সুখবীর মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে দলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করেছেন। তাঁর উল্লেখ করা একটি স্কুলে ২৫ জন শিক্ষক আছেন বলেও দাবি করেছে আম আদমি পার্টি।
সুখবীর দাবি করেছেন, শিক্ষক-শূন্যপদ পূরণের বিষয়টি তিনি দলের হাইকম্যান্ড, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান (Bhagwant Mann) এবং দিল্লির (Delhi) প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়ার (Manish Sisodia) কাছেও তুলেছিলেন। তাঁর নিজের সন্তানরা যে স্কুল অব এমিনেন্সে পড়ে, সেখানেও শিক্ষকের অভাব আছে বলে দাবি সুখবীরের। ভিডিওতে তিনি বলেন, সন্তানদের কী পড়ানো হচ্ছে তা জানতে চাইলে তারা শিক্ষক-সঙ্কটের কথা জানায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছেও তিনি বিষয়টি তুলেছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘শিশুদের শিক্ষার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে?’ সুখবীর আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাতে জানাতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকী, দল তাঁকে আর প্রার্থী না করলেও তাঁর আপত্তি নেই বলেও দাবি করেন এই বিধায়ক। তিনি আরও দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁকে ডাকা হলেও শেষপর্যন্ত সময় দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টি সরকারকে নিশানা করেছে বিজেপি (BJP)। দলের নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু (Ravneet Singh Bittu) বলেছেন, সুখবীরের আবেগপ্রবণ ভিডিও পাঞ্জাবের সরকারি স্কুলে শিক্ষক-সঙ্কটের বিষয়টিকে সামনে এনেছে। বিট্টুর বক্তব্য, নিজের দলের বিধায়কের অভিযোগই যদি সরকার না শোনে, তাহলে সাধারণ অভিভাবক, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা কীভাবে নিজেদের সমস্যার সমাধানের আশা করবেন, সেই প্রশ্ন উঠছে। তিনি আপ সরকারের শিক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে করা দাবির সঙ্গেও সরকারি স্কুলের পরিস্থিতির তুলনা করে জবাব চেয়েছেন। পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।