
রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। রবিবারের ওই কর্মসূচিতে প্রত্যাশিত ভিড় হয়নি বলে আগেই দাবি করেছিল বিজেপি। এ বার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সমাবেশের ভিড়ের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করার অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর দাবি, সমাজমাধ্যমে কংগ্রেস নেতাদের পোস্ট করা একটি ছবির সঙ্গে বাস্তবের মঞ্চের কোনও মিল নেই। যদিও বিজেপির এই অভিযোগ নিয়ে এখনও সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি কংগ্রেস।
রবিবার সন্ধ্যায় বিজেপির তরফে রামলীলা ময়দানের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, সমাবেশস্থলের ৪০ শতাংশেরও বেশি জায়গা ফাঁকা ছিল। বিরোধীরা ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েতের কথা বললেও বাস্তবে সেই সংখ্যার ধারেকাছেও ভিড় হয়নি বলে কটাক্ষ করে গেরুয়া শিবির। এর পরেই কংগ্রেসের পোস্ট করা একটি ছবি তুলে ধরে সরব হন রিজিজু।
ওই ছবিতে রামলীলা ময়দানকে কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হতে দেখা যাচ্ছে। মাথার উপর উড়ছে জাতীয় পতাকা এবং কংগ্রেসের হাত চিহ্ন দেওয়া পতাকা। দূরে মঞ্চের পিছনে রয়েছে বড় পোস্টার। তার এক পাশে সনিয়া গান্ধী এবং অন্য পাশে রাহুল গান্ধীর ছবি। রিজিজুর অভিযোগ, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। কারণ, বাস্তবে মঞ্চের পিছনে যে পোস্টার ছিল, তার সঙ্গে এই ছবির মিল নেই। তাঁর কটাক্ষ, ভিড় দেখানোর জন্য কংগ্রেস কৃত্রিম ছবি তৈরি করলেও সেই কাজও নিখুঁত হয়নি। তেলঙ্গানার কংগ্রেস সাংসদ বামসী গদ্দাম এবং গুজরাতের প্রাক্তন সাংসদ জগদীশ ঠাকোর-সহ দলের একাধিক নেতাও ছবিটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন।
তবে সমাবেশে লোকসমাগম কম হয়েছিল, বিজেপির এই দাবি মানতে নারাজ কংগ্রেস। তাদের বক্তব্যের সমর্থনে ড্রোন থেকে তোলা সমাবেশের ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে। রাহুল গান্ধীও নিজের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সেই ভিডিয়ো পোস্ট করে উপস্থিত মানুষদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ভোটচুরির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে বিপুল সংখ্যায় মানুষ একত্রিত হয়েছেন। গণতন্ত্র, সত্য এবং শেষ পর্যন্ত ‘ইন্ডিয়া’ জোটেরই জয় হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র রাহুলকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ছবি তোলার কারসাজি করে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। অর্থাৎ, সমাবেশের ভিড় নিয়ে দুই শিবিরের সংঘাত এখন সমাজমাধ্যমেও ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করেছিল বিরোধী জোট। সেখান থেকে রাহুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার জেলে যাবেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও পালাতে পারবেন না। সমাবেশের মঞ্চে রাহুল ও সনিয়ার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, এমএ বেবি এবং তেজস্বী যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতা।