India-China Talks: সীমান্ত নিয়ে বেজিংয়ে ২৫তম বৈঠক, মুখোমুখি ডোভাল ও ওয়াং ই

Saborni Mitra   | ANI
Published : Aug 25, 2026, 07:54 PM IST
Ajit Doval and Wang Yi Lead 25th Round of India China Border Negotiations

সংক্ষিপ্ত

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেজিংয়ে ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ২৫তম বৈঠকে বসেছেন। এর আগে ডোভাল চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠক চলছে বেজিংয়ে। ভারতের পক্ষে এই আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং চিনের পক্ষে রয়েছেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এর ঠিক আগেই, গত জুন মাসে ব্রিকস (BRICS) দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এসে ডোভালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন ওয়াং।

চিনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অজিত ডোভালের

এদিন মূল বৈঠকের আগে, ডোভাল চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। দুই নেতার মধ্যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

চিনের ভারতীয় দূতাবাস এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে এই বৈঠকের কথা জানায়। পোস্টে বলা হয়েছে, "২৫ আগস্ট, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ভারত-চীন সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গে দেখা করেছেন।"

ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত আলোচনার আগে ডোভাল এবং হান ঝেং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে কথা বলেন।

দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে হওয়া ঐকমত্যের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

ডোভালের চিন সফর নিয়ে চিনা কূটনীতিকের প্রতিক্রিয়া

ভারতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং এই বৈঠকের বিষয়ে জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং বলেছেন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উন্নতির গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু'বার দেখা করেছেন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহমত হয়েছেন।

শু ফেইহং এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, "ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে দেখা করেছেন। হান ঝেং বলেছেন যে গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী কাজান এবং তিয়ানজিনে দু'বার দেখা করেছেন। চিন-ভারত সম্পর্কের উন্নতির জন্য তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পুনরুদ্ধারের পথে ফিরিয়ে এনেছে।"

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, হান ঝেং বলেছেন যে প্রতিবেশী দুটি বৃহৎ উন্নয়নশীল দেশ এবং উদীয়মান অর্থনীতির শক্তি হিসেবে চীন ও ভারতের উচিত কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পর্ককে দেখা।

তিনি যোগ করেন, "দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলো মেনে চলা উচিত; কৌশলগত বিশ্বাস বাড়ানো; সহযোগিতার সম্ভাবনা খুঁজে বের করা; বহুপাক্ষিক সমন্বয় জোরদার করা; মতপার্থক্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং চীন-ভারত সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।"

ডোভালের কর্মসূচি

চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র আমন্ত্রণে সোমবার বিকেলে দু'দিনের সফরে বেজিং পৌঁছেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।

এই সফরকে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে সম্পর্কে বরফ গলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর তিয়ানজিনে SCO শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক উন্নতির ধারা লক্ষ্য করা গেছে।

দুই নেতাই পুনরায় নিশ্চিত করেছিলেন যে ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের সঙ্গী। তাদের মধ্যেকার মতপার্থক্য যেন বিবাদে পরিণত না হয়, সে বিষয়েও তারা একমত হয়েছিলেন।

বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিল, "পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে ভারত ও চিনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক এবং তাদের ২৮০ কোটি মানুষের সহযোগিতা দুই দেশের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য। ২১ শতকের প্রবণতা অনুযায়ী একটি বহুপাক্ষিক বিশ্ব এবং বহুপাক্ষিক এশিয়া গড়ে তোলার জন্যও এটি জরুরি।"

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Census 2027: দেশে কত ভিক্ষুক, কোন রাজ্য শীর্ষে? এই কারণেই জনগণনায় মিলবে না তথ্য
Aerospace Engineering: কৃত্রিম উপগ্রহ-উৎক্ষেপণ যান সবই বানাবে বেসরকারি কোম্পানি! মোদীর নীতিতে ভুগবে ইসরো? নাকি খুলবে নতুন দিগন্ত