
অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রী সিটির সত্যবেড়ু মণ্ডলে একটি ওষুধ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ। এই ঘটনায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। পুলিশ জানিয়েছে, তিল হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ নামের ওই কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, নাইট শিফটে কাজ চলছিল। সেই সময়ই আচমকা বয়লারটি ফেটে যায়। ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক ছিলেন, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর আহতের সংখ্যা প্রায় ১০। প্রত্যেকেই কারখানার শ্রমিক বলেও মনে করেছে প্রশাসন।
শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ এই বিস্ফোরণ হয়। প্রথমে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কারখানার শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অন্যদিকে, বুধবার ম্যাঙ্গালুরুতেও একটি বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (MRPL)-এর কারখানায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। এর জেরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। কারখানা থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়।
পুলিশ কমিশনার সুধীর কুমার রেড্ডি জানিয়েছেন, কারখানার হাইড্রো সালফার ট্রিটমেন্ট ইউনিটে এই জোরালো বিস্ফোরণ হয়। তারপরই আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় আটজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ কমিশনার রেড্ডি বলেন, "হাইড্রো সালফার ট্রিটমেন্ট ইউনিটে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের জেরে আটজন আহত হয়েছেন। রাজেশ নামে এক আহত ব্যক্তিকে কারখানা থেকে উদ্ধার করে শ্রীনিবাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখন বিপদমুক্ত। সিপি, ডিসি এবং সিইও ঘটনাস্থলে রয়েছেন।"
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ কমিশনার (সিপি), ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও)-সহ জেলার শীর্ষ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
বিজেপি বিধায়ক ভরত শেট্টি জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে কারখানার ভেতরের কোনও স্টিমার বা প্রেশার ইকুইপমেন্ট থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে এই ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি। শেট্টি আরও জানান, প্রায় ন'জন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে একজনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, "...প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভেতরের কোনও স্টিমার বা প্রেশার ইকুইপমেন্টের কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। কোনও মৃত্যুর খবর নেই। আমি সেখানকার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রায় ন'জন সামান্য আহত হয়েছেন। একজনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে... বিস্ফোরণস্থলের ঠিক উল্টোদিকের ভবনে ওই কর্মীরা বসেছিলেন, আর সেই কারণেই তাঁরা সামান্য আহত হয়েছেন।"