
Paternity Leave: কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা আনতে এবার জাতীয় মহিলা কমিশনের নতুন পদক্ষেপ (National Commission Of Women)। মাতৃত্বকালীনের পাশাপাশি এবার পিতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন হবু বাবারা। শুধু তাই নয়, কোনও মহিলা ও পুরুষ বা স্বামী-স্ত্রী একই অফিসে কর্মরত হন সেক্ষেত্রেও ৩৬৫ দিনের ছুটি ভাগ হয়ে যাবে। ফলে এবার থেকে সন্তান জন্মের পর বাচ্চার ও বাচ্চার মায়ের পাশে থাকতে বাবারাও পাবেন পিতৃত্বকালীন ছুটি। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু ও শ্রমিক পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের কাছে একটি সুপারিশ পত্র পেশ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। খুব শীঘ্রই ভারতে এই সুবিধা চালু করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তারা।
কেন্দ্রীয় শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের দফতরে পাঠানো ওই চিঠিতে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে যে, এবার থেকে ভারতে মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি পিতৃত্বকালীন ছুটিও চালু করা জরুরি। এতে স্ত্রী ও সন্তানের পাশে থাকতে পারবেন তার বাবা। বেসরকারি ক্ষেত্রেও লিঙ্গ-নিরপেক্ষ 'শিশু-যত্ন ছুটি' (Child Care Leave) চালু করা, বাধ্যতামূলক ও সবেতন 'পিতৃত্বকালীন ছুটি' (paternity leave) নিশ্চিত করার কথা বলেছে।
এবং সরকারি বা বেসরকারি ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ লক্ষ শিশু-যত্ন কেন্দ্র বা 'ক্রেস' (creche) গড়ে তোলা। কমিশন তার এই সুপারিশগুলো 'পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং' বিভাগ, নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছে। বেসরকারি কর্মক্ষেত্রের বাইরে থাকা নারীদের জন্যও মাতৃত্বকালীন সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, কমিশন অসংগঠিত ক্ষেত্র, 'গিগ' (gig) এবং 'প্ল্যাটফর্ম' কর্মীদের জন্যও মাতৃত্বকালীন ও শিশু-যত্ন সংক্রান্ত সুবিধা সম্প্রসারণের সুপারিশ করেছে। কমিশনের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৯০ শতাংশেরও বেশি নারী কর্মী কার্যকর সুরক্ষার আওতার বাইরে রয়েছে। ফলে এদের মাতৃত্বকালীন অবস্থায় স্বাস্থ্যের উপর নজর দেওয়া এবং যত্নে রাখা জরুরি।
এই বিষয়ে জাতীয় মহিলা কমিশন কর্মরত নারীদের মাতৃত্বকালীন সিসিএল (CCL) ব্যবস্থাকে লিঙ্গ-নিরপেক্ষ 'শিশু পরিচর্যা ছুটি'তে (Child Care Leave) রূপান্তর করার সুপারিশ করেছে। যা বাবা-মা উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে। কমিশন জানিয়েছে যে, ৭৩০ দিনের সিসিএল ব্যবস্থাকে কর্মরত বাবা-মায়ের মধ্যে সমানভাবে—অর্থাৎ প্রত্যেকে ৩৬৫ দিন করে—ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অথবা একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দম্পতির ক্ষেত্রে একটি যৌথ বা সাধারণ ছুটির ভাণ্ডার (common pool) ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ০ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পরিচর্যাকারীর মধ্যে ৬০:৪০ অনুপাতে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মডেল প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এই সুপারিশ পত্রে ‘প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা’-কে একটি সর্বজনীন ও আইনত0অধিকার হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গর্ভধারিণী, দত্তক গ্রহণকারী এবং ‘কমিশনিং’ মায়েদের (যাদের হয়ে অন্য নারী গর্ভধারণ করেন) জন্য মাতৃত্বকালীন সুবিধায় সমতা আনার সুপারিশ করা হয়েছে। যার মধ্যে দত্তক গ্রহণকারী ও ‘কমিশনিং’ মায়েদের ছুটির মেয়াদ ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।