
ইউপিআই পেমেন্ট সহজ আর দ্রুত হওয়ায় সবাই এখন এটা ব্যবহার করে। কিন্তু এই সহজতার সুযোগ নিয়েই বাড়ছে সাইবার জালিয়াতি। প্রতারকরা নানা ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের টাকা লুট করছে।
সবচেয়ে সাধারণ ফাঁদ হল ভুয়ো কিউআর কোড। আপনাকে বলা হবে, “এই কিউআর কোড স্ক্যান করলেই আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে”। আপনি স্ক্যান করলেই উল্টে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে যাবে। কারণ কিউআর কোড স্ক্যান করলে শুধু টাকা পাঠানোর পেজ খোলে, টাকা পাওয়ার নয়।
দ্বিতীয় ফাঁদ হল পেমেন্ট রিকোয়েস্ট। প্রতারকরা “রিফান্ড”, “ক্যাশব্যাক” বা “সরকারি ভাতা”র নামে আপনাকে পেমেন্ট রিকোয়েস্ট পাঠাবে। আপনি অ্যাপ্রুভ বাটনে ক্লিক করলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে যাবে।
তৃতীয় ফাঁদ হল ফোন কল। প্রতারক নিজেকে ব্যাঙ্ক বা কাস্টমার কেয়ারের কর্মী বলে পরিচয় দেবে। সে বলবে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যাবে বা কেওয়াইসি আপডেট করতে হবে। তারপর ওটিপি বা ইউপিআই পিন চাইবে। ওটিপি দিলেই আপনার অ্যাকাউন্টের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে তার হাতে।
আসল নিয়ম খুব সহজ। টাকা পাঠাতে গেলে ইউপিআই পিন লাগে। কিন্তু টাকা পেতে গেলে পিন বা ওটিপি কখনও লাগে না। তাই কেউ যদি টাকা পাঠানোর কথা বলে পিন চায়, বুঝবেন সেটা জালিয়াতি।
অচেনা নম্বর থেকে আসা পেমেন্ট রিকোয়েস্ট কখনও অ্যাপ্রুভ করবেন না। কিউআর কোড স্ক্যান করার আগে দেখে নিন সেটা বিশ্বস্ত দোকান বা ব্যক্তির কিনা। ব্যাঙ্ক কখনও ফোন করে ওটিপি বা পিন চায় না।
সবসময় অফিসিয়াল ইউপিআই অ্যাপ ব্যবহার করুন। সন্দেহজনক লিঙ্ক বা মেসেজ পেলে ক্লিক না করে ডিলিট করুন। প্রতারিত হলে ১৯৩০ নম্বরে সাইবার হেল্পলাইনে অভিযোগ করুন। একটু সতর্কতা আর সচেতনতাই আপনার সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রাখতে পারে।