Assam Floods: অসমে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮

Saborni Mitra   | ANI
Published : Aug 08, 2026, 09:47 AM IST
assam rain Assam Floods Worsen as Death Toll Reaches 98 Amid Severe Deluge bsm

সংক্ষিপ্ত

অসমে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সমস্যার জাতীয় স্তরে সমাধানের কথা বলেছেন। দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বক্সার লভলিনা বোরগোহাঁই।

অসমে বন্যার জল নামার কোনও লক্ষণ নেই, বরং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন করে মৃত্যুর খবর আসায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮-তে দাঁড়িয়েছে। অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (ASDMA) জানিয়েছে, এই বিধ্বংসী বন্যায় ৫৭ জন পুরুষ, ২৩ জন মহিলা এবং ১৮ জন শিশু (১২ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে) প্রাণ হারিয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসম

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কাছাড় জেলায়, সেখানে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শিবসাগরে মারা গেছেন ১০ জন। এছাড়া করিমগঞ্জ (৯ জন), গোলাঘাট (৬ জন) এবং ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, শোণিতপুর ও কার্বি আংলং জেলাতেও অনেকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন এবং রাজস্ব সার্কেলগুলো জলের স্তরের উপর সমানে নজর রাখছে। জলমগ্ন এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য পুরোদমে চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বার্তা

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বন্যাকে 'জাতীয় বিপর্যয়' ঘোষণার পরিবর্তে জাতীয় স্তরে এর স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। শর্মার মতে, এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার এবং নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি, শিক্ষাবিদদের এমন নতুন এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে যা সরকার কার্যকর করতে পারে।

এক্স-এ (আগের টুইটার) একটি পোস্টে শর্মা বলেন, "আমরা বন্যার জাতীয় সমাধান চাই, এটাকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করা হোক তা চাই না।" তিনি আরও যোগ করেন, "সরকার এবং নাগরিক সমাজকে এই বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের শিক্ষাবিদদের বন্যার জন্য নতুন এবং টেকসই সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত, যা আমাদের সরকার সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োগ করতে পারে।"

বন্যা থেকে নিস্তার পেতে বৈঠক

এর আগে ৭ আগস্ট, অসমের মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা শিবসাগর জেলায় বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন ও ত্রাণ ব্যবস্থা নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তার খোঁজখবর নেন তিনি।

শিবসাগরের ডেপুটি কমিশনারের অফিসের কনফারেন্স হলে এই বৈঠকে মন্ত্রী বিমল বোরা ও সুশান্ত বোরগোহাঁই এবং নাজিরার বিধায়ক ময়ূর বোরগোহাঁই উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে হাজারিকা পুনর্বাসনের কাজ কতটা এগিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, শিবসাগর শহর থেকে জল নিষ্কাশনের অবস্থা এবং বন্যাদুর্গতদের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখেন।

ডেপুটি কমিশনার জানান, জেলার প্রায় ৪৩,০০০ বন্যাদুর্গত পরিবার অসম সরকারের দেওয়া ১৫,০০০ টাকার অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সাহায্য পেয়েছে। হাজারিকা জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন যাতে কোনও যোগ্য পরিবার এই আর্থিক সাহায্য থেকে বাদ না পড়ে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুনর্বাসনের কাজ শেষ করা হয়।

জলের তলায় শিবসাগর, ধানসিড়ি

অসমের এই মন্ত্রী গত সাত দিন ধরে শিবসাগরে থেকে শিবসাগর ও চড়াইদেও জেলায় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ তদারকি করছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং দুর্গত পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন। যাদের বাড়িঘর বন্যায় পুরোপুরি ভেসে গেছে, তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় তৈরির কাজও শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এদিকে, শুক্রবার ভারতীয় বক্সার লভলিনা বোরগোহাঁই গোলাঘাটে বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সেখানকার পরিস্থিতিকে 'ভয়াবহ' বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ধানসিঁড়ি ও দয়াং নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় শুক্রবার সকালেও গোলাঘাট জেলার বড় অংশ জলের তলায় ছিল। বহু পরিবার বাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

লভলিনা ANI-কে বলেন, "এখানকার অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা আসার পথে চারদিকে ধ্বংসের ছবি দেখেছি। ঘরবাড়ি সব নষ্ট হয়ে গেছে, মানুষের অবস্থা খুব শোচনীয়। এই মুহূর্তে তাদের মাথার উপর ছাদ পর্যন্ত নেই। জানি না কবে সব স্বাভাবিক হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা প্রার্থনা করি যাতে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। এখন সবচেয়ে জরুরি হল আশ্রয়। ওরা খাবার, জামাকাপড় পেলেও রাখার জায়গা নেই। এটাই আসল সমস্যা। সরকার যদি তাড়াতাড়ি ওদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে খুব ভালো হয়।"

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

অষ্টম বেতন কমিশন: ৭ বছরে বেতন দ্বিগুণ হওয়ার ৩ কারণ, দেখুন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের হিসেব
School Fees: বেসরকারি স্কুলের ফি নিয়ে কড়া রাজ্য সরকার, জারি হল নতুন নিয়ম