ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। আমেরিকার কাছ থেকে জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত। এই খবর জানিয়েছে খোদ ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই ঘোষণা করেন তিনি।
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। আমেরিকার কাছ থেকে জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত। এই খবর জানিয়েছে খোদ ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই ঘোষণা করেন তিনি। তিনি এটিকে ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক সিস্টেমের যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন।
জ্যাভলিন হল একটি অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল সিস্টেম। লকহিড মার্টিন এবং আরটিএক্স (RTX)-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই অস্ত্র সেনারা কাঁধে বহন করে নিয়ে যেতে পারেন ও কাঁধে বসিয়েই উৎক্ষেপণ করতে পারেন। এর অনন্য বৈশিষ্ট্য হল পার্বত্য অঞ্চল থেকে শুরু করে খোলা মাঠ পর্যন্ত, বিভিন্ন ভূখণ্ডে দ্রুত মোতায়েন করার ক্ষমতা। এই সিস্টেমটি ট্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সাঁজোয়া যানকে ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন যে, জ্যাভলিন কেনার বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি ২০২৬ সালের মে মাসে শাংরি-লা সংলাপে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের দেওয়া মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, এই চুক্তিটি ভারতে জ্যাভলিনের যৌথ উৎপাদনের পথও প্রশস্ত করতে পারে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই তার সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী সক্ষমতা জোরদার করার জন্য কাজ করে আসছে। জ্যাভলিন সিস্টেমের সম্ভাব্য অধিগ্রহণকে এই কৌশলেরই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ধরনের অস্ত্র ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া যান মোকাবেলার জন্য, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায়, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন বিদেশ দফতর ভারতের কাছে ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের সম্ভাব্য একটি বিক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর আওতায় ১০০টি পর্যন্ত 'জাভলিন' (Javelin) সিস্টেম এবং ২১৬টি 'এক্সক্যালিবার' (Excalibur) গাইডেড আর্টিলারি প্রজেক্টাইল অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারত ইতিমধ্যেই তাদের এম৭৭৭ (M777) হাউৎজার কামানের সঙ্গে 'এক্সক্যালিবার' গোলাবারুদ ব্যবহার করছে।
ভারত আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নির্মিত বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও যান সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপাচি ও চিনুক হেলিকপ্টার, সি-১৭ ও সি-১৩০জে পরিবহন বিমান, পি-৮আই সামুদ্রিক টহল বিমান এবং এম৭৭৭ হাউৎজার। এর আগে জুলাই মাসে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল যে, দেশ দুটি বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও তাদের সহযোগিতার পরিধি বাড়াচ্ছে।
