
মহর্ষি মহেশ যোগী পরম্পরার বাহক এবং কানপুরের প্রেমেশ্বর ধামের প্রধান জগদগুরু স্বামী সতীশাচার্য জি মহারাজ জানিয়েছেন, এবারের অযোধ্যার দীপোৎসবে এক বিশেষ জ্যোতিষশাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে দশম দীপোৎসবে সরযূ নদীর তীরে ৩৩ লাখ মাটির প্রদীপ জ্বালানো হবে। জগদগুরু বলেন, "ত্রেতা যুগে যখন ভগবান রাম ফিরে এসেছিলেন, তখন অযোধ্যা প্রদীপের আলোয় সেজে উঠেছিল।
আজ দশম দীপোৎসবে যোগীজির চেষ্টায় সেই অযোধ্যাই সারা বিশ্বের কাছে আলোর বার্তা দিচ্ছে। তবে এই দীপোৎসবের আসল সাফল্য তখনই আসবে, যখন প্রতিটি ভারতীয়র মনে রামের আদর্শের প্রদীপ জ্বলে উঠবে।" তিনি আরও বুঝিয়ে বলেন যে, সনাতন ধর্মে ৩৩ কোটি বা ৩৩ ধরনের দেবতার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২টি আদিত্য, ৮টি বসু, ১১টি রুদ্র এবং ২টি অশ্বিনী কুমার। এই ১২টি আদিত্য আসলে স্বয়ং সূর্যেরই রূপ।
তিনি বলেন, "সূর্যবংশী ভগবান রামের শহরে, রবিবারে অর্থাৎ সূর্যের দিনে দীপাবলি পড়েছে। ৩৩ কোটি দেবতার জন্য ৩৩ লাখ প্রদীপ জ্বালানোটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ঐশ্বরিক সংকেত।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ভগবান রাম দশ মাথাওয়ালা রাবণকে হারিয়েছিলেন। দশ বছর আগে অযোধ্যায় যে প্রদীপ জ্বালানো শুরু হয়েছিল, তা আজ দশ দিকে আলো ছড়াচ্ছে।"
মহর্ষি পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে জগদগুরু দেশ-বিদেশের ভক্তদের কাছে একটি আবেদন করেছেন। তিনি বলেছেন, অযোধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর সময় সবাই যেন একটি করে প্রদীপ জ্বালান এবং এক মিনিট ভগবান রামের ধ্যান করেন।
তাঁর কথায়, "বাইরের প্রদীপ জ্বালানো তখনই সার্থক হবে, যখন ধ্যানের ভেতরের প্রদীপটি জ্বলে উঠবে।" জগদগুরু স্বামী সতীশাচার্য জি কানপুরের কল্যাণপুরে প্রেমেশ্বর ধামের প্রধান। নির্বাণী, নির্মোহী এবং দিগম্বর আখড়া তাঁকে জগদগুরু উপাধি দিয়েছিল। তিনি মহর্ষি মহেশ যোগীর পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।