
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন রাজস্থানের উপ-মুখ্যমন্ত্রী প্রেম চাঁদ বৈরওয়া। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর মমতা যেভাবে নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং বিজেপিকে দোষারোপ করেছেন, তার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। বৈরওয়া বলেন, ভোটে হারলেই কংগ্রেস এবং তাদের সঙ্গীরা এভাবেই ইভিএম আর নির্বাচন কমিশনকে দোষ দেয়, এটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৈরওয়া বলেন, "যখন উনি জেতেন, তখন তো কোনও অভিযোগ করেন না। এখন হেরে গিয়েছেন, তাই অভিযোগ করছেন। এটাই ওঁদের অভ্যাস। কংগ্রেস এবং তাদের সঙ্গীদের এটা একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে যে হারলেই ওরা নির্বাচন কমিশন আর ইভিএম মেশিনকে কাঠগড়ায় তোলে। কিন্তু জিতলে আবার সব চুপ। তাই জনগণের রায় আমাদের সকলের মাথা পেতে মেনে নেওয়া উচিত।"
মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে 'গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লুট' করার জন্য অভিযুক্ত করেন। ভোটের ফল তার দলের বিরুদ্ধে গেলেও তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন।
মমতা জোর গলায় বলেন, "আমি পদত্যাগ করব না। আমি হারিনি। আমি রাজভবনেও যাব না... প্রশ্নই ওঠে না। আমরা নির্বাচনে হারিনি। ওরা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের হারাতে পারে, কিন্তু নৈতিকভাবে আমরাই জিতেছি।"
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বড় ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর পদত্যাগের চাপ বাড়লেও তিনি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এই নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়ী হয়েছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) মাত্র ৮০টি আসনে নেমে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি বিরাট পরিবর্তন।
এই ফলের হাত ধরে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গড়তে চলেছে। শুধু তাই নয়, এই জয় আসামে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এর হ্যাটট্রিক জয়েও বড় ভূমিকা রেখেছে, যা এই অঞ্চলে বিজেপির শক্তি আরও বাড়িয়েছে।