যোগী সরকার কি উত্তরপ্রদেশের আখ চাষিদের সবচেয়ে বড় সমস্যার সমাধান করে ফেলল? কেন চিনি উৎপাদনে মহারাষ্ট্রকেও পেছনে ফেলল ইউপি? ৪৮ লক্ষ কৃষক পরিবার কীভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হল? জেনে নিন আখ চাষের পেমেন্ট এবং চিনি শিল্প নিয়ে পুরো রিপোর্ট।

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার আখ চাষিদের স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। চাষিরা যাতে সময়মতো ও স্বচ্ছভাবে তাঁদের ফসলের দাম পান, তার জন্য লাগাতার কাজ করে চলেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে, ২০১৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের আখ চাষিদের মোট ৩,২২,৭২২ কোটি টাকা মেটানো হয়েছে, যা একটি রেকর্ড। এই পুরো টাকাটা সরাসরি চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT) পাঠানো হয়েছে, যার ফলে ফড়ে বা দালালদের দাপট প্রায় শেষ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে আখ ও চিনি শিল্প গ্রামীণ অর্থনীতির মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে। চাষিদের আয় বাড়ানো, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে সরকার একের পর এক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। শুধু তাই নয়, চিনি উৎপাদনের গড় হারের দিক থেকেও উত্তরপ্রদেশ দেশের অনেক বড় রাজ্যকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

৯ বছরে ৩.২২ লক্ষ কোটি টাকার রেকর্ড পেমেন্ট

আখ চাষিদের সময়মতো টাকা মেটানোর ক্ষেত্রে যোগী সরকার একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। গত ৯ বছরে চাষিদের মোট ৩,২২,৭২২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। শুধু ২০২৫-২৬ মরশুমেই এখনও পর্যন্ত ৩০,৮৩১.৮১ কোটি টাকা চাষিদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ চাষি তাঁদের বকেয়া টাকা পেয়ে গিয়েছেন। বাকি চিনিকলগুলিকেও দ্রুত টাকা মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

'স্মার্ট আখ চাষি' সিস্টেমে সব কিছুই ডিজিটাল

যোগী সরকার আখ চাষিদের জন্য প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যবস্থা চালু করেছে। 'স্মার্ট আখ চাষি' নামের এই সিস্টেমের মাধ্যমে আখের জমির পরিমাণ, চুক্তি, ক্যালেন্ডার এবং পার্চি বা স্লিপ দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটাই এখন অনলাইন। চাষিরা এখন তাঁদের মোবাইলেই আখের স্লিপ পেয়ে যান এবং টাকাও সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসে। এর ফলে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা বেড়েছে, তেমনই চাষিদের হয়রানিও কমেছে।

চিনি উৎপাদন ও পুনরুদ্ধারে উত্তরপ্রদেশের নতুন রেকর্ড

২০২৫-২৬ মাড়াই মরশুমে উত্তরপ্রদেশে মোট ১২১টি চিনিকল চালু রয়েছে। এর মধ্যে রাজ্য সরকারের ৩টি, সমবায় ক্ষেত্রের ২৩টি এবং বেসরকারি ৯৫টি চিনিকল আছে। এই চিনিকলগুলি ৮৭৭.৯৬ লক্ষ টন আখ মাড়াই করে ৮৯.৬৮ লক্ষ টন চিনি উৎপাদন করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, উত্তরপ্রদেশের গড় চিনি পুনরুদ্ধারের হার (average sugar recovery) ১০.২১ শতাংশ।

তুলনায়, মহারাষ্ট্রে ২১০টি চিনিকল থাকা সত্ত্বেও সেখানে এই হার মাত্র ৯.৪৯ শতাংশ। কর্নাটকে তা আরও কম, ৮.১৯ শতাংশ। অর্থাৎ, চিনি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ অন্য বড় রাজ্যগুলিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

আখের দাম বাড়ায় চাষিদের অতিরিক্ত লাভ

যোগী সরকার ২০২৫-২৬ মরশুমের জন্য আখের দাম কুইন্টাল প্রতি ৩০ টাকা বাড়িয়েছে, যা চাষিদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। সরকার উন্নত জাতের আখের দাম প্রতি কুইন্টাল ৪০০ টাকা এবং সাধারণ জাতের জন্য ৩৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে চাষিরা প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত পেয়েছেন। যোগী সরকারের আমলে এই নিয়ে চতুর্থবার আখের দাম বাড়ানো হল।

৪৮ লক্ষ আখ চাষি পরিবারের আর্থিক উন্নতি

সময়মতো টাকা পাওয়া এবং আখের দাম বাড়ার ফলে রাজ্যের প্রায় ৪৮ লক্ষ আখ চাষি পরিবার সরাসরি উপকৃত হয়েছে। সরকারের দাবি, রাজ্যের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আখ উন্নয়ন দফতর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যোগী সরকারের এই নীতির ফলে আখ চাষিদের আর্থিক অবস্থা যেমন মজবুত হয়েছে, তেমনই গ্রামীণ অর্থনীতিও নতুন গতি পেয়েছে।