
প্রজাতন্ত্র দিবস পালনে ‘একতা ও অভিন্নতা’ বজায় রাখার যুক্তিতে করাপুট জেলার জেলাশাসক মনোজ সত্যবান মহাজন একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৬ জানুয়ারি করাপুট জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চল জুড়ে মাংস, মুরগি, মাছ এবং ডিম বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। শনিবার এই নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার, তহশিলদার ও এক্সিকিউটিভ অফিসারদের কড়া ভাবে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে, জাতীয় দিবসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ওই দিন নিরামিষ খাবার বেছে নিতে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এটি ‘প্রশাসনিক গাইডলাইন’ মেনে জাতীয় অনুষ্ঠান পালনের অংশ। তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। করাপুট চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি কিরণ কুমার বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ স্পষ্ট।
পটাঙ্গি কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক রামচন্দ্র কাড়ম বলেন, “জেলাশাসকের কাজ জেলার প্রশাসন চালানো, মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা নয়। এই নির্দেশ স্বাধীনতার ভাবনার বিরোধী।” করাপুটের আইনজীবী সত্যবাদী মহাপাত্রের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের ১৪ ও ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। তাঁর কথায়, “প্রজাতন্ত্র দিবস কোনও ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি জাতীয় অনুষ্ঠান। এখানে মানুষের খাবারের পছন্দ ঠিক করে দেওয়া সাংবিধানিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে।”
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা বিদ্যুৎ খাড়া আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়ে। তিনি বলেন, “মাছ ও মাংস বিক্রেতারা দৈনিক বিক্রির ওপর নির্ভর করে সংসার চালান। হঠাৎ করে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিলে তাঁদের বড় আর্থিক ক্ষতি হবে। চাইলে প্রশাসন দোকানের সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।” উল্লেখ্য, এর আগেও দেশের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আবেগের কথা বলে মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে অযোধ্যা পুরনিগম অযোধ্যা ও ফৈজাবাদকে সংযোগকারী ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রামপথ এলাকায় মদ ও মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। করাপুটের সাম্প্রতিক নির্দেশ সেই বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।