
Bangriposi Tourism: শহরের জ্যাম, অফিসের টেনশন, একঘেয়ে জীবন। মনটা পালাই পালাই করে? কিন্তু হাতে সময় ২ দিন, পকেটে বাজেট কম। দীঘা ভিড়, পুরীতে হোটেল নেই। তখনই ম্যাপে খুঁজে পাবেন বাংরিপোসি। নামটা শুনলেই বুদ্ধদেব গুহর উপন্যাস মনে পড়ে। ঝুম বৃষ্টি, ঘন জঙ্গল, লাল কাঁকরের পথ। এখনও ঠিক তেমনই আছে। কলকাতা থেকে সকাল ৬টায় বেরোলে ১১টায় পৌঁছে যাবেন। NH-6 ধরে সোজা রাস্তা। পাহাড়, ঝরনা, ড্যাম, মন্দির, সব একসঙ্গে। ভিড় নেই, দূষণ নেই, শুধু সবুজ আর সবুজ।
৫টা কারণ
১. ৪ ঘণ্টায় পাহাড়: কলকাতা থেকে গাড়িতে ৪-৪.৫ ঘণ্টা। ট্রেনে বালেশ্বর নেমে ১ ঘণ্টা। রাত জেগে জার্নি না, শরীরে ধকল নেই। শুক্রবার রাতে অফিস করে বেরোলেও হবে।
২. এক ট্রিপে সব: ২০ কিমির মধ্যে পাহাড়, নদী, ড্যাম, ঝরনা, জঙ্গল, মন্দির। বাইক বা গাড়ি নিয়ে টইটই করে ঘুরুন। ফটো তুলে ক্যামেরা মেমরি ফুল হয়ে যাবে।
৩. বাজেট ফ্রেন্ডলি: হোটেল ৮০০ টাকা থেকে শুরু। খাওয়া লোকাল ধাবায় ৮০ টাকায় ফুল মিল। গাড়ি ভাড়া করে ঘুরলে ২ দিনে ২,৫০০-৩,০০০ টাকায় হয়ে যাবে পার হেড।
৪. সিমলিপালের গেটওয়ে: বাংরিপোসি থেকে সিমলিপাল ন্যাশনাল পার্ক ৪০ কিমি। হাতে ১ দিন এক্সট্রা থাকলে সাফারি করে আসুন। বাঘ না দেখলেও হাতি, হরিণ, ময়ূর কনফার্ম।
৫. অফবিট শান্তি: দিঘার মতো হকারের চিৎকার নেই। দার্জিলিংয়ের মতো গাড়ির লাইন নেই। আদিবাসী গ্রাম, মহুয়ার গন্ধ, রাতে ঝিঁঝির ডাক। কাপল, ফ্যামিলি, বন্ধু—সবার জন্য সেফ।
১ রাত ২ দিনের ফুল প্ল্যান
১: কলকাতা থেকে বাংরিপোসি সকাল ৬টায় বেরোন। কোলাঘাটে ব্রেকফাস্ট। ১১টায় বাংরিপোসি চেক ইন। ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ। দুপুর: খৈরুদি ড্যাম। সবুজ পাহাড় ঘেরা বিশাল জলাধার। বোটিং হয়। ফটো পয়েন্ট। সানসেট দেখুন। বিকেল: বুড়িবালাম নদীর ধার। লাল মাটি, দূরে পাহাড়। লোকালদের মাছ ধরা দেখুন। রাত: হোটেলে দেশি মুরগির ঝোল আর ভাত। চাইলে বনফায়ার।
দিন ২: ঝরনা-মন্দির-বাড়ি ফেরা সকাল: ব্রহ্মকুণ্ড ঝরনা। বাংরিপোসি থেকে ৮ কিমি। জঙ্গলের ভিতর ছোট কিন্তু সুন্দর ফলস। স্নান করতে পারবেন। পাথরে বসে পা ডুবিয়ে রাখুন। এরপর: দুয়ারসিনি মাতার মন্দির। পাহাড়ের উপর। ৫০০ সিঁড়ি ভাঙতে হবে। উপর থেকে পুরো ভ্যালি দেখা যায়।
দুপুর: লাঞ্চ করে চেক আউট। পথে বিষ্ণুপুর ঘাটি। পাহাড়ি রাস্তা, ভিউপয়েন্ট। ফটো তুলুন। বিকেল ৩টায়: কলকাতার জন্য রওনা। রাত ৮টায় বাড়ি।
হাতে সময় থাকলে: সুলাইপাত ড্যাম, বাঁকাবল ড্যাম, জোড়া মন্দির দেখুন। সিমলিপাল সাফারি ১ দিন লাগবে।
কীভাবে যাবেন: গাড়িতে: কলকাতা-খড়গপুর-লোধাশুলি-বহড়াগোড়া-বাংরিপোসি। NH-49। রাস্তা মাখন। ২২০ কিমি। টোল ২০০ টাকা। ট্রেনে: হাওড়া থেকে ধৌলি এক্সপ্রেস, ইস্পাত এক্সপ্রেস ধরে বালেশ্বর। সকাল ৯টায় নামায়। বালেশ্বর থেকে বাংরিপোসি বাস/গাড়ি ৬০ কিমি, ১.৫ ঘণ্টা। বাসে: ধর্মতলা থেকে বাংরিপোসি/বারিপদা রুটের নাইট বাস আছে। ভোরে নামায়।
কোথায় থাকবেন: হোটেল বাংরিপোসি: স্টেশনের কাছে, বেস্ট অপশন। AC রুম ১৫০০ টাকা। OTDC পান্থনিবাস: ওড়িশা ট্যুরিজমের। লোকেশন সেরা, পাহাড়ের কোলে। ১২০০-২০০০ টাকা। অনলাইন বুকিং হয়। হোটেল সিমলিপাল: বাজেট অপশন। ৮০০ টাকা থেকে নন-AC। হোমস্টে: লোকাল আদিবাসী হোমস্টে আছে। ৬০০ টাকা পার হেড, খাওয়া সহ। এক্সপেরিয়েন্স হবে।
খরচ কত: গাড়ি তেল + টোল: ২৫০০ টাকা, ৪ জন গেলে পার হেড ৬২৫ টাকা। হোটেল ১ রাত: ১২০০ টাকা, পার হেড ৬০০ টাকা। খাওয়া ২ দিন: ৬০০ টাকা পার হেড। লোকাল সাইটসিয়িং অটো/গাড়ি: ১২০০ টাকা, পার হেড ৩০০ টাকা। টোটাল: ২২০০-৩০০০ টাকা পার হেড। ট্রেনে গেলে আরও কম।
১. দেশি মুরগির ঝোল: রাস্তার ধারের ধাবায় খান। মহুয়া গাছের নিচে বসে গরম ভাত আর ঝাল ঝাল দেশি মুরগি। স্বর্গ। দাম ১৪০ টাকা প্লেট।
২. মহুয়া: শীতকালে গেলে লোকাল মহুয়ার রস বা ফল টেস্ট করুন। আদিবাসী গ্রামে পাবেন।
৩. বৃষ্টিতে বাংরিপোসি: জুন থেকে সেপ্টেম্বর বেস্ট টাইম। ঝরনায় জল থাকে, পাহাড় সবুজ, রাস্তা ধুয়ে যায়। বুদ্ধদেব গুহর উপন্যাস চোখের সামনে ভাসবে।
কী মাথায় রাখবেন: ATM কম, ক্যাশ রাখুন। Jio-Airtel নেটওয়ার্ক ভালো। জঙ্গলে গেলে গাইড নিন। হাতি বেরোয়। রাতে একা বেরোবেন না।
উইকেন্ডে দীঘা-মন্দারমণি ছেড়ে একবার বাংরিপোসি ঘুরে আসুন। পাহাড়-জঙ্গল-ঝরনা সব পাবেন, পকেটও ফাঁকা হবে না। মন ভালো করার দাওয়াই। বর্ষা নামলেই প্ল্যান করুন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।