Kamikaze Drones: এবার ভারতের ট্যাঙ্কেও বসবে কামিকাজে ড্রোন, শত্রু নিকেশ হবে নিমেষে

Published : May 29, 2026, 10:14 PM IST
HARPY kamikaze drones

সংক্ষিপ্ত

আর্মার্ড ভেহিকেলস নিগম লিমিটেড (AVNL) দেশের ভবিষ্যৎ যুদ্ধট্যাঙ্কের জন্য উন্নতমানের 'লোইটারিং মিউনিশন' এবং নজরদারি ড্রোন তৈরির জন্য ভারতীয় সংস্থাগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই উদ্যোগটি ফিউচার রেডি কমব্যাট ভেহিকেল (FRCV) প্রোগ্রামের একটি অংশ।

নয়াদিল্লি: ভারতের ভবিষ্যৎ যুদ্ধট্যাঙ্কগুলিকে আরও মারাত্মক করে তুলতে এক বড় পদক্ষেপ নিল আর্মার্ড ভেহিকেলস নিগম লিমিটেড (AVNL)। সংস্থাটি একটি এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট (EoI) জারি করেছে, যার মাধ্যমে তারা এমন ভারতীয় সংস্থা খুঁজছে, যারা ট্যাঙ্কের জন্য উন্নতমানের ড্রোন সিস্টেম ডিজাইন ও তৈরি করতে পারবে। এর ফলে ভারতীয় সেনার সাঁজোয়া বাহিনীতে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে।

চেন্নাইয়ের আবাড়িতে অবস্থিত হেভি ভেহিকেলস ফ্যাক্টরি (HVF)-র মাধ্যমে এই EoI জারি করা হয়েছে। AVNL মূলত তিন ধরনের ড্রোন তৈরির জন্য পার্টনার খুঁজছে – লোইটারিং মিউনিশন (কামিকাজে ড্রোন), সাধারণ নজরদারি ড্রোন এবং ট্যাঙ্কের সঙ্গে তার দিয়ে জোড়া বা টেথারড ড্রোন। এই ড্রোনগুলি প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পদ্ধতি বা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন প্রসিডিওর (DAP) ২০২০-র অধীনে 'বাই (ইন্ডিয়ান-IDDM)' ক্যাটেগরিতে কেনা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হল দেশীয় প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া এবং ভারতেই উৎপাদনের ব্যবস্থা করা।

নথি অনুযায়ী, AVNL প্রথমে তিনটি প্রোটোটাইপ সেট তৈরি করাবে। এরপর যদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ফিউচার রেডি কমব্যাট ভেহিকেল (FRCV) প্রোগ্রামের অধীনে AVNL-এর ট্যাঙ্কটি নির্বাচিত হয়, তাহলে প্রায় ৫৯০টি ড্রোন সিস্টেম তৈরি করা হতে পারে। এই ড্রোন সিস্টেমগুলি ভারতীয় সেনার সাঁজোয়া ব্রিগেডকে যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেবে। এর মাধ্যমে অনেক দূর পর্যন্ত নজরদারি চালানো এবং শত্রুপক্ষের নাগালের বাইরে থেকে নির্ভুলভাবে হামলা করা সম্ভব হবে।

কামিকাজে ড্রোন বা লোইটারিং মিউনিশনগুলিকে কমপক্ষে ৫০০ মিমি রোলড হোমোজিনিয়াস আর্মার (RHA) ভেদ করার ক্ষমতা রাখতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৬০০ মিমি। এমনকি, এক্সপ্লোসিভ রিঅ্যাক্টিভ আর্মার (ERA) লাগানো ট্যাঙ্কের ওপর থেকে হামলা চালিয়ে সেটিকে ধ্বংস করার ক্ষমতাও থাকতে হবে।

এই ড্রোনগুলির অপারেশনাল রেঞ্জ হতে হবে কমপক্ষে ১৫ কিলোমিটার এবং অন্তত ৪৫ মিনিট আকাশে ভেসে থাকার ক্ষমতা থাকতে হবে। টার্গেটে আঘাত করার ক্ষেত্রে এর ভুল হওয়ার সম্ভাবনা এক মিটারেরও কম হতে হবে। সমতল, মরুভূমি, জঙ্গল, শহর এবং এমনকি ১৮,০০০ ফুট উচ্চতার পার্বত্য অঞ্চলেও এই ড্রোনগুলিকে কাজ করতে হবে।

নজরদারির জন্য যে ড্রোনগুলি তৈরি করা হবে, সেগুলিকে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে 2K রেজোলিউশনে প্রতি সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেমের ভিডিও পাঠাতে হবে। শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক হামলাতেও যাতে এর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন না হয়, সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে। জিপিএস না থাকলেও যাতে এটি নিজের কাজ চালিয়ে যেতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে টার্গেট চিহ্নিত করে ঘাঁটিতে ফিরে আসতে পারে, সেই প্রযুক্তিও থাকা চাই।

এছাড়াও, টেথারড ড্রোনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এগুলি ট্যাঙ্কের সঙ্গে তার দিয়ে জুড়ে থাকবে এবং সরাসরি ট্যাঙ্ক থেকেই পাওয়ার নেবে। ফলে দীর্ঘক্ষণ ধরে আকাশে ভেসে থেকে নজরদারি বা যোগাযোগের রিলে হিসাবে কাজ করতে পারবে।

AVNL জানিয়েছে, প্রোটোটাইপ পর্যায়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ দেশীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে হবে, যা চূড়ান্ত উৎপাদনের সময় বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করতে হবে। এই EoI শুধুমাত্র ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্যই খোলা। তবে যে সমস্ত সংস্থা সরাসরি ভারতীয় সেনার FRCV, FICV, ARV বা লাইট ট্যাঙ্ক প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত, তারা এই ড্রোন প্রকল্পে অংশ নিতে পারবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংঘাত, বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়েই ভারত নিজেদের সাঁজোয়া যানের সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তিকে যুক্ত করার ওপর এত জোর দিচ্ছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Lucknow Accident: লখনউতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল প্ল্যাটফর্মের শেড, চাপা পড়লেন যাত্রী ও TTE
Salary Hike: বেতন ছাড়াতে পারে ১০ লক্ষ! ৪ গুণ বৃদ্ধির দাবিতে সরব রেলকর্মীরা