
BJP In Charge: অধরা পশ্চিমবঙ্গ জেতা হয়ে গিয়েছি। দীর্ঘদিন পর দিল্লির মসনদেও ফেরা গিয়েছে। হরিয়ানা থেকে মহারাষ্ট্র, বিহারে জয়রথে বিরোধীদের ধরাশায়ী হয়েছে। গোটা দেশে এখন ২২টি রাজ্যে ক্ষমতায়। দেশে ১২ বছর একটানা সিংহাসনে। বিজেপির পতাকা গোটা দেশজুড়ে মাথা উঁচু করে উড়ছে। তবে এর মাঝে আশঙ্কাও রয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, জেন জি আন্দোলনের পর গেরুয়া শিবিরে সতর্কতা বেড়েছে। তার তাই ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতিটা এখন থেকেই শুরু করে দিল শাসক দল। দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পশ্চিমবঙ্গসহ সারা দেশের ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নতুন ইন-চার্জ (ভারপ্রাপ্ত) এবং সহ-ইন-চার্জদের তালিকা প্রকাশ করল সর্বভারতীয় ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।
সাংগঠনিক রদবদলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো,পশ্চিমবঙ্গের সংগঠনকে আরও মসৃণ ও শক্তিশালী করতে সুনীল বানসল-কেই (Sunil Bansal) কেন্দ্রীয় ইন-চার্জ পদে বহাল রাখা হয়েছে। দার্জিলিংয়ের দুবারের সাংসদ রাজু বিস্ত-কে দেওয়া হয়েছে সিকিমের দায়িত্ব।হরিয়ানা ও ছত্তিশগড়ের দায়িত্বে আনা হল স্মৃতি ইরানিকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় ইন-চার্জ পদে নিয়ে আসা হল বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ে-কে। রেখা গুপ্তার রাজ্য দিল্লিতে বিজেপির ইনচার্জ করা হল বিনয় সহস্রবুদ্ধে-কে।
পশ্চিমবঙ্গে সুনীল বানসালকে সাহায্য করতে কো ইনচার্জ থাকছেন লাল সিং আর্য, রাজেন্দ্র সিং ও পিঙ্কি খুশওয়া। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি কংগ্রেস শাসিত তেলঙ্গানার কেন্দ্রীয় ইনচার্জ থাছেন সুনীল বানসাল।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা ও সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটের পর্যালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজ্য। সুনীল বাঁশাল পূর্বেও এ রাজ্যে বিজেপির পর্যবেক্ষক ও ইন-চার্জ হিসেবে সংগঠন চালনার দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও বুথ স্তরের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিকে পাখির চোখ করেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় ইন-চার্জের তালিকা:
১. পশ্চিমবঙ্গ: সুনীল বানসল।
২. উত্তর প্রদেশ: বিনোদ তাওড়ে ।
৩. ছত্তিশগড় ও হরিয়ানা: স্মৃতি ইরানি ।
৪. তামিলনাড়ু ও উত্তরাখণ্ড: রাম মাধব ।
৫. মহারাষ্ট্র:*বৈজয়ন্ত জয় পান্ডা ।
৬. দিল্লি:বিনয় সহস্রবুদ্ধে
৭. জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাঞ্জাব: সতীশ পুনিয়া।
৮. গুজরাট:তরুণ চুঘ।
৯. বিহার ও কর্ণাটক:হরীশ দ্বিবেদী।
১০. ওড়িশা:ডি. পুরন্দেশ্বরী।
১১. অন্ধ্র প্রদেশ:অরবিন্দ ভাদোরিয়া
১২. আসাম:মঙ্গল পাণ্ডে।
১৩. হিমাচল প্রদেশ:শ্রীকান্ত শর্মা
১৪. রাজস্থান: সঞ্জয় ভাটিয়া
১৫. গোয়া:ভারতী প্রবীণ পাওয়ার
১৬. নাগাল্যান্ড:অনিল অ্যান্টনি।
১৭. ঝাড়খণ্ড: গজেন্দ্র প্যাটেল।
১৮. লাক্ষাদ্বীপ: জর্জে কুরিয়ান।
১৯. মধ্যপ্রদেশ:বাবুল কুমার দেব।
২০. মনিপুর: রাজদীপ রায়।
২১. মেঘালয়: কনাদ পুরকায়স্থ।
২২. মিজোরাম:ভাগবত করাদ।
২৩. পুদুচেরি:কে. সুরেন্দ্রন।
২৪. সিকিম:রাজু বিস্ত ।
২৫. ত্রিপুরা: মৃগাঙ্ক দেব বর্মন।
২৬. আন্দামান ও নিকোবর:জয় প্রকাশ।
২৭. অরুণাচল প্রদেশ: দেবেশ কুমার।
২৮. চণ্ডীগড়:মহেন্দ্র পাণ্ডে।
২৯. দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ: নরেন্দ্র ভাই দোশি।
৩০. তেলঙ্গানা:সুনীল বানসাল (পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি এটিও সামলাবেন)।
কেন্দ্রীয় বিজেপির এই মেগা তালিকার মাধ্যমে স্পষ্ট যে, চব্বিশের লোকসভা পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজ্যভিত্তিক কৌশল সাজাতে অভিজ্ঞ নেতাদেরই কাঁধে দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিশেষ করে বঙ্গ বিজেপির ক্ষেত্রে সুনীল বাঁশালের পুনর্বাহাল রাজ্য বিজেপির অন্দরে বড়সড় ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।