
BJP Nitin Nabin Team: একের পর এক রাজ্যে ক্ষমতায় দখলের পর আত্মতুষ্টি চায় না বিজেপি। আর তাই জাতীয় সংগঠনে বড় রদবদল করল শাসক দল। ২০২৭ সালের আসন্ন বেশ কয়েকটি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন এবং তার পর ২০২৯ লোকসভা ভোটকে লক্ষ্য রেখে সর্বভারতীয় সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল করল ভারতীয় জনতা পার্টি। সোমবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের নতুন কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের পূর্ণাঙ্গ টিম প্রকাশ করলেন দেশের সবচেয়ে কনিষ্ঠ বিজেপি সভাপতি ৪৬ বছর বয়সী নিতিন নবীন। নীতিন নবীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই দলের সর্বভারতীয় স্তরে প্রথম বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন।
বিজেপির নতুন সাংগঠনে পশ্চিমবাংলা থেকে দু'জন নেতানেত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে বাংলার মধুছন্দা করকে। পাশাপাশি, সর্বভারতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা। রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সেলের নেতৃত্বে থাকা মধুছন্দা করের নতুন দায়িত্ব বিশেষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গার সর্বভারতীয় সম্পাদক হওয়ায় উত্তরবঙ্গ থেকেও জাতীয় সংগঠনে বাংলার প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হল।
নবগঠিত এই কেন্দ্রীয় কমিটিতে অভিজ্ঞতা ও তরুণ নেতৃত্বের সুষম মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বড়সড় প্রত্যাবর্তন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আমেঠি আসনে পরাজিত হওয়ার দু'বছরেরও বেশি সময় পর তাঁকেই পুনরায় কেন্দ্রীয় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর-পূর্ব ভারত ও জম্মু-কাশ্মীরে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করতে ভূমিকা নেওয়া প্রাক্তন জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
দেখুন ছবিতে
भाजपा राष्ट्रीय अध्यक्ष श्री @NitinNabin द्वारा निम्नलिखित सदस्यों को भाजपा के राष्ट्रीय पदाधिकारी एवं अन्य दायित्वों पर नियुक्त किया जा रहा है। (1/2) pic.twitter.com/tcTJsJG0dc
— BJP (@BJP4India) August 17, 2026
দলীয় সূত্রে খবর, নতুন এই কেন্দ্রীয় টিমে মহিলা ও যুব নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ভারসাম্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মোট ১৩ জনকে জাতীয় সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে, যার মধ্যে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, বৈজয়ন্ত জয় পণ্ডা, ডি পুরন্দেশ্বরী, রেখা বর্মা, ভারতী পাওয়ার এবং মনপ্রীত সিং বাদল অন্যতম। অন্যদিকে স্মৃতি ইরানির পাশাপাশি বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনসল, বিপ্লব কুমার দেব, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী ও সঞ্জয় ভাটিয়া সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে পূর্বের ন্যায় বহাল রাখা হয়েছে বি এল সন্তোষকে।
সংগঠনে একাধিক বড় রদবদলের মাঝে সবচেয়ে বড় চমক আইটি সেলে। দীর্ঘদিনের আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সেই পদে আনা হয়েছে ছত্তিশগড়ের দীপক মাসকে-কে। তবে মিডিয়া সেলের দায়িত্বে অনিল বালুনি এবং জাতীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পীযূষ গোয়েল বহাল রয়েছেন। নতুন এই টিম কেবল ২০২৭-এর রাজ্য নির্বাচন নয়, বরং ২০২৯ ও ২০৩৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের দীর্ঘমেয়াদী নীল নকশা তৈরি করতেই মাঠে নামছে।
আরশোলা কাণ্ডের পর সতর্ক
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নিট (NEET) বিতর্কের জেরে তৈরি হওয়া অসন্তোষ সামাল দিতে এবং ২০২৭ সালে উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, গুজরাত, হিমাচল প্রদেশ ও গোয়ার মতো রাজ্যগুলির গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি সারতেই দ্রুত এই পরিবর্তন।