
BRICS Summit 2026: রবিবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দক্ষিণ আফ্রিকা ব্রিকস গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সদস্য। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই দু'দিনের সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রামাপোসা। এবারের সম্মেলনের থিম হল “Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability”। শনিবার, রামাপোসা 'Inclusive Global Governance & Strengthening Multilateralism' শীর্ষক ব্রিকস অধিবেশনে অংশ নেন। এছাড়াও তিনি নয়াদিল্লিতে 'ভারত ইনোভেটস' প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
BRICS Summit 2026: ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বৈঠক
শুক্রবার, ব্রিকস বিজনেস ফোরামের লিডার্স সেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তন, বাণিজ্যিক ধারার বদল, দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চাপের মধ্যে ব্রিকস এখন একটি 'গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে' (inflection point) দাঁড়িয়ে আছে। রামাপোসা বলেন, “ব্রিকস হিসেবে আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছি। বিশ্ব অর্থনীতি নতুন করে তৈরি হচ্ছে, বাণিজ্যের ধরন বদলাচ্ছে, প্রযুক্তি দ্রুত এগোচ্ছে এবং জলবায়ুর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানিকে ভাবতে হচ্ছে তারা কোথা থেকে জিনিস কিনবে, কোথায় উৎপাদন করবে বা বিনিয়োগ করবে। আমাদের জন্য এটা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির জন্য আরও স্থিতিশীল, বৈচিত্র্যময় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটা সুযোগ।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ব্রিকস দেশগুলিকে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি আরও গভীর উৎপাদক স্তরের অর্থনৈতিক পার্টনারশিপ গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে।তিনি বলেন, “বহুদিন ধরে উন্নয়নশীল দেশগুলো বিশ্ব বাজারে শুধু কাঁচামাল সরবরাহকারী এবং অন্যত্র তৈরি হওয়া পণ্যের ক্রেতা হিসেবেই অংশ নিয়েছে। পণ্যের মূল্য সংযোজন, প্রযুক্তি এবং উচ্চমানের উৎপাদন অন্য কোথাও কেন্দ্রীভূত থেকেছে। সম্প্রসারিত ব্রিকসের মধ্যে আমাদের এই ধারা আর চালানো উচিত নয়। আমাদের লক্ষ্য হল, শুধু ব্রিকসের অন্দরে বাণিজ্য বাড়ানো নয়, বরং আমাদের অর্থনীতির মধ্যে উৎপাদক স্তরের সম্পর্ক আরও গভীর করা।”
BRICS Summit 2026: মালয়েশিয়া এবং ইথিওপিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক মোদীর, জোর প্রতিরক্ষা-বাণিজ্যে
রামাপোসা অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে বেসরকারি ক্ষেত্রের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি ২০১৩ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকার সভাপতিত্বে ব্রিকস বিজনেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার কথা মনে করিয়ে দেন।
অন্যদিকে, শিল্পপতি নবীন জিন্দালও ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট রামাপোসার সঙ্গে বৈঠক করেন। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং কৌশলগত বিনিয়োগ কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। জিন্দাল এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে বলেন, “নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মহামান্য প্রেসিডেন্ট @CyrilRamaphosa-র সঙ্গে দেখা করে সম্মানিত বোধ করছি। আমাদের দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ এবং পরিপূরক শক্তির ওপর ভিত্তি করে এই পার্টনারশিপ স্থিতিশীল বৃদ্ধি এবং শিল্প উন্নয়নের জন্য বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।”
এর আগে রবিবার, প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপো এবং ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ আর. মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।