
বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে মহরাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচজনের। চার্টার্ড লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি বারামতী বিমানবন্দরের রানওয়ের ধারে ভেঙে পড়ে। এরপর তাতে আগুন লেগে যায়। অজিত পাওয়ার ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক-সহ ৪ জনের। তাঁদের মধ্য়ে রয়েছেন ক্যাপ্টেন শাম্ভাবী পাঠক একজন। পাঠক দিল্লি-ভিত্তিক নন-শিডিউলড এয়ার ট্রান্সপোর্ট অপারেটর ভিএসআর ভেঞ্চার্সে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া আরেকজন পাইলট হলেন ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর। উভয়ই অভিজ্ঞ বিমান চালক।
ক্যাপ্টেন শাম্ভাবী পাঠক ছিলেন একজন সেনা কর্তার মেয়ে। তিনি বিমান বাহিনীর বাল ভারতী স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যারোনটিক্স, এভিয়েশন এবং অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে বিএসসি সম্পন্ন করেছেন। পরে তিনি নিউজিল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কমার্শিয়াল পাইলট অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিমান ক্রুদের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।
ভিএসআর ভেঞ্চার্সের শীর্ষ কর্মকর্তা ভি কে সিং বলেছেন যে উভয় পাইলট দিল্লিতে ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা তাঁদের ছিল। বিমানটি সম্পূর্ণরূপে ওড়ার জন্য উপযুক্ত ছিল। কোনও কারিগরি ত্রুটি ছিল না। এটি খুব ভালভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে কম দৃশ্যমানতা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সিং বলেন, 'প্রাথমিকভাবে, মনে হচ্ছে দৃশ্যমানতা ছিল না। পাইলট রানওয়েতে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছিলেন, একটি মিস অ্যাপ্রোচ করেছিলেন এবং তারপরে আবার চেষ্টা করেছিলেন। যদি কোনও পাইলট রানওয়ে দেখতে না পান, তবে তিনি মিস অ্যাপ্রোচ করবেন।' সিং আরও বলেন যে ক্যাপ্টেন কাপুরের ১৬,০০০ ঘণ্টারও বেশি বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। যেখানে সহ-পাইলটের প্রায় ১,৫০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল।
পাইলটদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করে সিং বলেন যে দুজনেই খুব কাছের ছিলেন। তিনি বলেন, 'ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর আমার খুব প্রিয় বন্ধু ছিলেন। তাঁর ছেলেও পাইলট হিবেবে আমাদের এখানে কর্মরত। ক্যাপ্টেন শাম্ভাবী আমার কাছে সন্তানের মতো ছিলেন। তাঁরা দুজনেই অত্যন্ত ভাল মানুষ এবং অত্যন্ত ভাল পাইলট ছিলেন। তাঁরা দুজনেই দিল্লির বাসিন্দা।'
বিমান দুর্ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বিমান দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উঠে আসছে কুয়াশা ও দৃশ্যমানতা কম। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারদের বিমানটি যখন অবতরণের চেষ্টা করছিল, তখন ঘন কুয়াশা এবং দৃশ্যমানতা কম ছিল। প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা সফল বিফল হয়। পরে দ্বিতীয়বার অবতরণ করার সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। রানওয়ের পাশে আছড়ে পড়ে বিমানটি। এরপর তাতে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। কিন্তু আগুনে জেটটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, রানওয়ের কাছে পৌঁছনোর প্রায় ১০০ ফুট আগে বিমানটি ভেঙে পড়েছিল। বিমানটি যখন নামছিল, তখন মনে হয়েছিল এটি ভেঙে পড়বে এবং এটি ঘটেছিল। তারপরে এটি বিস্ফোরিত হয় এবং একটি বিশাল আগুন ধরে যায়। এরপর আরও ৪-৫টি বিস্ফোরণ হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মানুষজন এসে বিমান থেকে যাত্রীদের বের করার চেষ্টা করে। প্রচণ্ড আগুনের কারণে তাঁরা সাহায্য করতে পারেনি।