
বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ ৫ জনের। বারামতী বিমানবন্দরে অতরণের সময় ভিএসআর ভেঞ্চারস পরিচালিত বোম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি ভেঙে পড়ে আগুন লেগে যায়। যার ফলে বিমানে থাকা পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বিমান দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উঠে আসছে কুয়াশা ও দৃশ্যমানতা কম। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারদের বিমানটি যখন অবতরণের চেষ্টা করছিল, তখন ঘন কুয়াশা এবং দৃশ্যমানতা কম ছিল। প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা সফল বিফল হয়। পরে দ্বিতীয়বার অবতরণ করার সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। রানওয়ের পাশে আছড়ে পড়ে বিমানটি। এরপর তাতে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। কিন্তু আগুনে জেটটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, রানওয়ের কাছে পৌঁছনোর প্রায় ১০০ ফুট আগে বিমানটি ভেঙে পড়েছিল। বিমানটি যখন নামছিল, তখন মনে হয়েছিল এটি ভেঙে পড়বে এবং এটি ঘটেছিল। তারপরে এটি বিস্ফোরিত হয় এবং একটি বিশাল আগুন ধরে যায়। এরপর আরও ৪-৫টি বিস্ফোরণ হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মানুষজন এসে বিমান থেকে যাত্রীদের বের করার চেষ্টা করে। প্রচণ্ড আগুনের কারণে তাঁরা সাহায্য করতে পারেনি।
এদিকে, ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের মাধ্যমে মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। পাওয়ারের মৃতদেহ তাঁর ঘড়ি এবং পোশাক দেখে শনাক্ত করা হয়েছে, অন্য যাত্রীদের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা পোশাক এবং জিনিসপত্র দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) তদন্ত শুরু করেছে। ফ্লাইটের শেষ মুহূর্ত জানান জন্য ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, সেই সময় বিমানবন্দরের আবহাওয়ার বিবরণও জানা হবে।
অজিত পাওয়ার যে বিমানটিতে ভ্রমণ করছিলেন তা ছিল ভিএসআর অপারেটরের মালিকানাধীন একটি লিয়ারজেট-৪৫ বিমান (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভিটি-এসএসকে)। টেইল নম্বর VT-SSK, সিরিয়াল নম্বর ৪৫-৪১৭। মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন-মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, একজন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক, একজন অ্যাটেনডেন্ট এবং দু'জন ফ্লাইট ক্রু সদস্য (পাইলট-ইন-কমান্ড এবং ফার্স্ট অফিসার)। লিয়ারজেট ৪৫ হল একটি টুইন-ইঞ্জিন-হালকা বিজনেস জেট, যা সাধারণত কর্পোরেট এবং ভিআইপি ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। মাঝারি মাপের এই বিমানটি স্বল্প এবং মাঝারি দূরত্বের উড়ানের জন্য উপযুক্ত। ভিএসআর ভেঞ্চার্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে বিমানটির কোনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা ছিল না। ভিএসআরের শীর্ষ কর্মকর্তা বিজয় কুমার সিং বলেছেন যে বিমানটি ১০০% নিরাপদ ছিল এবং ক্রুরা মোটামুটি অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি আরও যোগ করেছেন যে দৃশ্যমানতার অভাব একটি কারণ হতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ডিজিসিএ তদন্ত থেকে আসবে।