
Himanta Biswa Sarma: অসমে বৃহস্পতিবার এক দফায় রাজ্যর সব কটি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ। ভোটের ৭২ ঘণ্টা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল কংগ্রেস। হিমন্ত-কে বিনা যুদ্ধে জমি ছেড়ে দিতে নারাজ হাত শিবির। চাপে রাখার খেলা শুরু করে দিল। সব মিলিয়ে অসম বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। তাঁর স্ত্রী-র পাসপোর্ট বিষয়ক এক ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র মনোনয়ন বাতিলের দাবি তুলল কংগ্রেস।। প্রসঙ্গত, এবারও জালুকবাড়িতে প্রার্থী হয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
বৃহস্পতিবার এক দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলা অসম নির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এক সাংবাদিক বৈঠকে হিমন্ত বিশ্বশর্মা-র বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়া শর্মা নাকি তিনটি দেশের পাসপোর্ট রয়েছে, যা নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়াও বিদেশে সম্পত্তি, বিশেষ করে দুবাইয়ে বিনিয়োগ, এবং আমেরিকার ওয়াইওমিং-এ একটি উচ্চমূল্যের কোম্পানির সঙ্গে পরিবারের যোগ থাকার অভিযোগও তোলে কংগ্রেস। হাত শিবিরের দাবি, ওই কোম্পানির মূল্য প্রায় ৩৪.৬৭ বিলিয়ন ডলার এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের নাম যুক্ত রয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই বিপুল সম্পত্তি ও আর্থিক তথ্য গোপন করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা।
কংগ্রেসের মতে, মনোনয়নপত্রে এই ধরনের তথ্য গোপন করা নির্বাচনী অনিয়মের শামিল। তাই জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রার্থীপদ অবিলম্বে বাতিল করা উচিত বলে দাবি কংগ্রেস নেতা পবন খেরার। পাশাপাশি, পুরো ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের দাবিও জানিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস আরও জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কেও অবহিত করবে।
অন্যদিকে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযোগগুলি মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা-সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা (দেওয়ানি ও ফৌজদারি) করবেন। ভোটের ঠিক আগে এই বিতর্কে অসমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যায়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়া খুবই বিরল এবং সাধারণত এই ধরনের বিষয় নির্বাচন-পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হয়।