
DA Hike with Salary: দীপাবলির উপহার হিসেবে দিল্লি সরকার জানিয়েছে যে, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (MCD)-তে কর্মরত প্রায় ৪,০০০ জন জনস্বাস্থ্য কর্মীকে ‘সমান কাজের জন্য সমান বেতন’ নীতির আওতায় ন্যূনতম ১৮,০০০ টাকা মাসিক বেতন এবং তার সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা (DA) দেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বছরে অতিরিক্ত ৫২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এমসিডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। মেয়র প্রবেশ ওয়াহি জানিয়েছেন, বর্ধিত বেতন সরাসরি কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সেইসব কর্মীরা আর্থিক স্বস্তি পাবেন, যারা কয়েক দশক ধরে এই পুরসংস্থার জনস্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করে আসছেন।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, রাজধানীতে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য এই কর্মীদের শুরুতে ‘ডোমেস্টিক ব্রিডিং চেকার’ (ডিবিসি) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাদের জনস্বাস্থ্য বিভাগে ‘মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ’ (MTS) হিসেবে নতুন পদমর্যাদা দেওয়া হয়।
এমসিডি কমিশনার সঞ্জীব খিরওয়ার জানান, এই কর্মীরা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন; যার মধ্যে রয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশার প্রজননস্থল পরীক্ষা করা এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের প্রচেষ্টায় সহায়তা করা।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, তাদের বেতন ‘পে ম্যাট্রিক্স’-এর লেভেল-১-এর ন্যূনতম স্তর অর্থাৎ মাসে ১৮,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সঙ্গে যুক্ত থাকবে মহার্ঘ ভাতা।
রেখা গুপ্তা বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেইসব কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যারা জনস্বাস্থ্য পরিষেবায় কয়েক দশক উৎসর্গ করেছেন। তিনি আরও বলেন, জরুরি নাগরিক পরিষেবায় নিয়োজিত কর্মীদের কল্যাণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
মেয়র প্রবেশ ওয়াহি জানান, এমসিডি-র জনস্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত এমটিএস কর্মীদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবটি পুরসংস্থার আগের বাজেটেই অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি জানান, পরবর্তীতে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের অনুমোদনের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। "আমরা যখন মুখ্যমন্ত্রীকে আগের বাজেটে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি জানালাম, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এর খরচের পরিমাণ জানতে চাইলেন। বার্ষিক ৫২ কোটি টাকা খরচের কথা জানানো হলে, তিনি কোনো বিলম্ব ছাড়াই তাতে অনুমোদন দিলেন," তিনি বলেন।
এমসিডি (MCD)-এর ওপর এর ফলে বার্ষিক ৫২ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেয়রের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দিল্লির সেবায় নিয়োজিত হাজার হাজার কর্মীর দেখাশোনা করা আমাদের দায়িত্ব।”
ওয়াহি অভিযোগ করেন যে, আগের প্রশাসনগুলো এমটিএস (MTS) কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর যথাযথ সমাধান না করেই তাদের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তিনি জানান, সাম্প্রতিক এই বেতন সংশোধন দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে।
নাগরিক সংস্থার পক্ষ থেকে কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং রাজধানীজুড়ে জনসেবার মান জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দিওয়ালির আগে ২,৫০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করবে এমসিডি
এর পাশাপাশি, দিওয়ালির আগে দিল্লিজুড়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এমসিডি ২,৫০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করবে। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে বাজার এবং অন্যান্য জনবহুল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।
ওয়াহি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। উৎসবের দিনগুলোতে মানুষের ভিড় বৃদ্ধি এবং বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, এই অতিরিক্ত কর্মীসংখ্যা নাগরিক সংস্থাকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেয়র জানান, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো এবং রাস্তাঘাট, বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।