২.১২ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা প্রস্তাবে ছাড়পত্র, সেনার জন্য আসছে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও আধুনিক অস্ত্র

Published : Oct 26, 2026, 07:36 PM IST
Defence Acquisition Council approved proposals worth 212 lakh crore modern weapons and systems will be purchased for the Army Navy Air Force

সংক্ষিপ্ত

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশ ভারতীয় শিল্পের কাছ থেকে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে মনে রাখা জরুরি, এটি কেনাকাটার চূড়ান্ত বরাত নয়। ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি’ (AoN) হল ক্রয়প্রক্রিয়ার প্রাথমিক অনুমোদন।

স্থলসেনার জন্য কী কী সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব?

ভারতীয় সেনার জন্য একাধিক আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

- হাই মোবিলিটি ভেহিকল (HMV): দুর্গম এলাকায় সেনার যাতায়াত ও রসদ পরিবহণ আরও সহজ করবে।

- সেলফ-প্রপেলড ট্র্যাকড গান সিস্টেম: যান্ত্রিক সেনা ইউনিটের গতিশীলতা ও গোলন্দাজ হামলার ক্ষমতা বাড়াবে।

- লাইট মাল্টি রোল হেলিকপ্টার: নজরদারি, যুদ্ধ, উদ্ধারকাজ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যবহার করা যাবে।

- ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS): স্বল্প দূরত্বে ছোট ও আধুনিক আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় কাজে আসবে।

- কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম: শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও মোকাবিলায় সাহায্য করবে।

- দূরপাল্লার ড্রোন ও নজরদারি ব্যবস্থা: শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াবে।

এছাড়াও গান শট রেসপন্স সিস্টেম এবং ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড স্ট্রাইক সিস্টেমের মতো প্রযুক্তি কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নৌসেনার জন্য থাকছে আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি

ভারতীয় নৌসেনার জন্য অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে অ্যাকটিভ অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম (AODS) এবং পরবর্তী প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার তৈরির পরিকল্পনা। অ্যাকটিভ অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম শত্রুর জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার নৌসেনার যুদ্ধক্ষমতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত।

বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, অস্ত্র ও রাডার

ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিভিন্ন অস্ত্র এবং মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার ওয়েদার রাডার সিস্টেম কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ধরনের ইউটিলিটি হেলিকপ্টার বায়ুসেনার বিমান পরিবহণের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, এক্স-ব্যান্ড ডপলার ওয়েদার রাডার সীমান্তবর্তী ও অগ্রবর্তী এলাকায় স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে উচ্চমানের তথ্য সরবরাহ করবে। এর ফলে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে সুবিধা হবে।

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় সুযোগ

এই প্রস্তাবগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশীয় উৎপাদনের উপর জোর। মোট প্রস্তাবিত কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশ ভারতীয় শিল্পের কাছ থেকে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা সংস্থাগুলির জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। DAC-এর অনুমোদন মানেই সমস্ত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া নয়। AoN হল প্রাথমিক পর্যায়ের অনুমোদন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী দরপত্র, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, মূল্য আলোচনা এবং অন্যান্য সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত চুক্তি করা হবে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

বিধায়কের দলবদলে জনগণের টাকার অপচয়? কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের
Bank Holidays: চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ৪ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক, নির্দেশ জারি করল RBI