Assam Flood: আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮, নতুন করে বৃষ্টির সতর্কতা, ৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

Published : Jul 30, 2026, 12:55 PM IST
Assam Floods

সংক্ষিপ্ত

আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮-এ দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সাতটি জেলায় ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও বন্যা কবলিত অবস্থায় রয়েছেন। আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ASDMA) জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনায় শিবসাগরে দুজন এবং গোলাঘাটে একজনের মৃত্যু হয়েছে। যার ফলে এ বছর বন্যাজনিত কারণে মোট মৃতের সংখ্যা ৭৮-এ পৌঁছেছে।

আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮-এ দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সাতটি জেলায় ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও বন্যা কবলিত অবস্থায় রয়েছেন। আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ASDMA) জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনায় শিবসাগরে দুজন এবং গোলাঘাটে একজনের মৃত্যু হয়েছে। যার ফলে এ বছর বন্যাজনিত কারণে মোট মৃতের সংখ্যা ৭৮-এ পৌঁছেছে। বুলেটিন অনুযায়ী, বন্যা-কবলিত সাতটি জেলা—শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ এবং কামরূপ মেট্রোপলিটনের মোট ৩,০০,০৩১ জন মানুষ এই দুর্যোগের শিকার হয়েছেন। ২১টি রাজস্ব সার্কেল ও ৫৫১টি গ্রাম এখনও বন্যার কবলে রয়েছে এবং ২১,৫২৩.০৮ হেক্টর ফসলি জমি জলের নীচে আছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা৩.৩২ লাখ

বন্যা-কবলিত জেলাগুলোর মধ্যে চরাইদেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ১,৩৭,৫৬১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরপরই রয়েছে শিবসাগর (৮৪,৬০০) ও জোরহাট (৪৯,৯১১)। মঙ্গলবার ছয়টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩.৩২ লাখ। নতুন করে আরও একটি জেলা বন্যার কবলে পড়া সত্ত্বেও সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬,৫০০-এরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ ৭১টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং আরও ৭২,০০০-এরও বেশি মানুষকে ৩০টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে চিকিৎসা ও পশুচিকিৎসা দল এবং একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বন্যার ফলে বাঁধ, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, স্কুল এবং অন্যান্য সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ASDMA জানিয়েছে, ১১,০০০-এরও বেশি গবাদি পশু ভেসে গেছে এবং আরও ১৭,০০০ গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বন্যার পাশাপাশি কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় বন্যা পরিস্থিতিও অব্যাহত রয়েছে সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী, তিনটি রাজস্ব সার্কেল এবং ১০টি এলাকা বা ওয়ার্ড এখনও বন্যা কবলিত অবস্থায় রয়েছে। প্রভাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে পাডুমবাড়ি, বোরাগাঁও, এক্সেলকেয়ার হাসপাতাল, লাচিত নগর, চিড়িয়াখানা রোড (জু রোড), রুক্মিনীগাঁও, অনিল নগর, নবীন নগর, সাতগাঁও, বিহারবাড়ি, হাতিগাঁও, ওয়্যারলেস, জোরাবাট এবং জুবিন ক্ষেত্রের নিকটবর্তী কামারকুচি।

কেন্দ্রের সহায়তার আশ্বাস

বন্যা পরিস্থিতি ও চলমান ত্রাণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাত দিনের মধ্যে এটি ছিল এ ধরনের দ্বিতীয় আলোচনা। এর আগে ২৩ জুলাই শাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছিলেন। আলোচনার বিস্তারিত জানিয়ে শর্মা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে ত্রাণ, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সব সহায়তা ভারত সরকার অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের সব সংস্থা ও সম্পদ আসামের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। ২১ জুলাইয়ের পর আর ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং বন্যার জল নেমে গেলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও ব্যাপক।

তিনি বলেন, "বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। অনেক মানুষ তাঁদের বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না, কারণ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা কাদা ও পলি জমে গেছে। নাগাল্যান্ডের পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদার কারণে কিছু জায়গায় রাস্তাঘাট এখনও বন্ধ হয়ে আছে।" মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘব করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও নাকচ করে দিয়ে বলেন, এই সঙ্কট মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার—উভয়ই সক্ষম। শর্মা আরও জানান যে সারা দেশ থেকে প্রচুর অনুদান আসছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের নির্দেশনায় তিনি বৃহস্পতিবার আসামে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সব ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে বন্যা-কবলিত নাগরিকদের নেওয়া ঋণের বিষয়ে বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Kangana Ranaut: CJP-র বিরুদ্ধে ফের সরব কঙ্গনা রানাউত, কড়া ভাষায় নিশানা
Mid Day Meal: এবার মিড ডে মিলে দেওয়া হতে পারে চিকেন বিরিয়ানি, বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার