নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াতে ৮০ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট। জার্মানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশেই তৈরি হবে ৬টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন। পাশাপাশি আরও তিনটি স্করপিন সাবমেরিন তৈরির ভাবনাও রয়েছে।
পাকিস্তান ও চিনের নৌবাহিনী নিজেদের মধ্যে হাত মিলিয়েছে। তাদের টেক্কা দিতে ভারতও এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশেই ৬টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন তৈরির জন্য ৮০ হাজার কোটি টাকার একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জার্মানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই প্রজেক্টটি হবে। পাশাপাশি, মুম্বইয়ের মাজাগন ডকইয়ার্ড লিমিটেডে (MDL) আরও তিনটি স্করপিন (কলবরী) ক্লাসের সাবমেরিন তৈরির প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানকে নৌশক্তিতে টেক্কা দিতে মরিয়া ভারত
পাকিস্তান নৌবাহিনীতে 'হাঙ্গর-ক্লাস' সাবমেরিন যুক্ত হওয়া এবং ভারতের আন্ডারওয়াটার ফ্লিট বা জলের তলার নৌবহর শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং এএনআই-কে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, "প্রজেক্ট-৭৫(আই) এবং অতিরিক্ত স্করপিন সাবমেরিন—দুটি নিয়েই আমরা চিন্তাভাবনা করছি। প্রজেক্ট-৭৫(আই) এখন একদম শেষ পর্যায়ে। এটি জমা দেওয়া হয়েছে এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "অতিরিক্ত স্করপিন সাবমেরিন নিয়েও কথা চলছে। যদিও এটি অন্যটির মতো অতটা অত্যাধুনিক নয়, তবে এটিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।"
ভারতে তৈরি ৬টি সাবমেরিন
ভারতের সরকারি শিপইয়ার্ড এমডিএল (MDL) এবং জার্মান কোম্পানি টিকেএমএস (TKMS) মিলে দেশে এই ৬টি সাবমেরিন তৈরি করবে। এতে ভারতের বেসরকারি সংস্থাগুলোরও বড়সড় অংশগ্রহণ থাকবে। প্রতিরক্ষা সচিব জানান, নতুন সাবমেরিন তৈরির পাশাপাশি পুরনো সাবমেরিনগুলোর ক্ষমতাও বাড়ানো হবে। স্করপিন-ক্লাসের সাবমেরিনগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি 'এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন' (AIP) সিস্টেম বসানো হবে।
তাঁর কথায়, "আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে যখন আমাদের একটি দেশীয় সাবমেরিন মেরামতির জন্য আসবে, তখন তাতে ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি এই এআইপি (AIP) সিস্টেম বসানোর চেষ্টা করছি। জলের তলায় আমাদের ক্ষমতা বাড়াতে আমরা একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করছি। সাবমেরিনগুলো যে পুরোপুরি ভারতেই তৈরি হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।" শুধু ইঞ্জিন আপগ্রেড নয়, নৌবহরের যুদ্ধ-কাঠামোতেও বড়সড় বদল আসছে।
রাজেশ কুমার সিং আরও বলেন, "দেশীয় এআইপি (AIP), দুটি অতিরিক্ত স্করপিন এবং জার্মানদের সঙ্গে প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর পাশাপাশি আমাদের ল্যাবরেটরি 'নেভাল ফিজিক্যাল অ্যান্ড ওশানোগ্রাফিক ল্যাবরেটরি' (NPOL) সম্প্রতি সাবমেরিনের জন্য একটি অত্যন্ত উন্নত দেশীয় ইন্টিগ্রেটেড কমব্যাট সিস্টেম তৈরি করেছে। মেরামতির জন্য সাবমেরিনগুলো যখন আসবে, তখন ধীরে ধীরে সবকটিতেই এই সিস্টেম বসানো শুরু করব। সাবমেরিনের যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি একটি বড়সড় গেম চেঞ্জার হতে চলেছে।"


