বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ বুধবার রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। রাত ১১টা থেকে ১টার মধ্যে এই ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় শ্রীকাকুলাম জেলার কলিঙ্গপটনমের কাছাকাছি এলাকায়। এর জেরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ উপকূল জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি।
210
৭৫ কিমি গতিতে ঝড়
মৌসম ভবনের হিসেব অনুযায়ী, উপকূল এলাকায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। এমন প্রবল বেগের হাওয়ায় বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে, যার ছবি ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
310
বৃহস্পতিবার ভোরের অবস্থান
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ নিম্নচাপটি ছিল কলিঙ্গপটনম থেকে ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পূর্বে এবং ওড়িশার গোপালপুর থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ধীরে ধীরে এটি উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুরীতে লাল সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সমুদ্রে স্নান আপাতত পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৈকতে লাল পতাকা উঁচিয়ে চলছে প্রচার, সঙ্গে অবিরাম মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে দর্শনার্থীদের।
510
সৈকতে বাড়তি লাইফগার্ড মোতায়েন
পুরীর বিভিন্ন সৈকত এলাকায় অতিরিক্ত লাইফগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনও অনভিপ্রেত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। প্রশাসনের তরফে বারবার আবেদন জানানো হচ্ছে, পর্যটকরা যেন সমুদ্রের কাছাকাছি না যান।
610
বিজয়ওয়াড়ায় বন্ধ স্কুল
নিম্নচাপের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক শহরে বুধবার সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া চলছে। পরিস্থিতির অবনতির জেরে বিজয়ওয়াড়া শহরে টানা দু'দিন বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুলগুলি। শহরের বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
710
ঝাড়খণ্ড-বাংলাতেও প্রভাব
শুধু অন্ধ্র বা ওড়িশা নয়, নিম্নচাপের প্রভাব পড়েছে ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গেও। এই দুই রাজ্যেও ঝড়বৃষ্টি চলছে। সতর্কতা হিসেবে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
810
দক্ষিণবঙ্গে কমলা সতর্কতা
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। কিছু জেলায় জারি হয়েছে অতিভারী বর্ষণের কমলা সতর্কতা। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
910
শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা
পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এলাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে শুক্রবার পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
1010
কবে মিলবে স্বস্তি?
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নিম্নচাপ 'গভীর' চরিত্র বজায় রাখবে। এর পর ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হবে এটি। শুক্রবার পর্যন্ত উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি চলার সম্ভাবনা থাকলেও, শনিবার থেকে বৃষ্টির প্রকোপ কমতে শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।