
Delhi PG Collapse: বাড়ির মালিক ও তাঁর পরিবার গ্রেপ্তার। রবিবার, দিল্লির সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতনে একটি পাঁচতলা বাড়ি ভেঙে সাতজনের মৃত্যু হয় (Delhi PG Collapse)। এই ঘটনায় বাড়ির মালিক-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বাড়ির মালিক উর্মিলা গুপ্তা (৭৫), তাঁর স্বামী তথা ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হরিরাম গুপ্তা (৮১) এবং তাঁদের ছেলে মহেশ গুপ্তা (৫২)। পুলিশের মতে, বাড়িটি উর্মিলা গুপ্তার নামে রেজিস্ট্রি করা থাকলেও, এটির দেখাশোনা করতেন তাঁর স্বামী ও ছেলে। এই ঘটনায় পিজি অপারেটর এবং লেবার কন্ট্রাক্টরের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে (unsafe PG accommodation)।
Narendra Modi: শিক্ষক দিবসে কলেজের অনুষ্ঠান, দিল্লি মেট্রোয় চড়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শেষ হয়ে গেছে। চিফ ফায়ার অফিসার এ কে মালিক জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে সাতজন মারা গিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কে মালিক জানান, "কিছুক্ষণ আগে আমরা আরও একজনের দেহ উদ্ধার করেছি। সবমিলিয়ে, মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। উপরের তলার ছাদগুলো সব সরানো হয়ে গেছে। আমরা এখন বেসমেন্টের দিকে এগোচ্ছি। ভেতরে কেউ আটকে থাকার সম্ভাবনা থাকলে আমরা সরাসরি ভারী মেশিন ব্যবহার করি না। প্রথমে ছোট যন্ত্র দিয়ে হাতে করে দেখে নিই ভেতরে কেউ আছে কিনা। কেউ নেই নিশ্চিত হওয়ার পরেই ভারী মেশিন লাগানো হয়, তাই প্রক্রিয়াটা একটু ধীরে চলছে। তবে একবার নিশ্চিত হয়ে গেলে, ভারী মেশিন ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।"
এই ঘটনায় আহত চারজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা স্থিতিশীল এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভর্তি হওয়া রোগীরা হলেন আসগর আলি (৪৯), নীরজ বাওয়া (১৯), আদিত্য কুমার (১৯) এবং নীতিশ চিব (১৯)। কৃষ্ণ (৩০) নামের একজন প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে এআইআইএমএস (AIIMS) থেকে ছাড়া পেয়েছেন। অন্যদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর, দিল্লির উপ-রাজ্যপাল (LG) রঞ্জিত সিং এলজি সচিবালয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, মন্ত্রী আশিস সুদ, মুখ্যসচিব, এনডিআরএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল পীযূষ আনন্দ, দিল্লি পুলিশের কমিশনার, শিক্ষা সচিব, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, এমসিডি কমিশনার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বৈঠকে দিল্লির বিল্ডিংগুলির নিরাপত্তা, ছাত্রছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা এবং পেয়িং গেস্ট (পিজি) সংক্রান্ত নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
Delhi: Visuals from Satya Niketan showed a dilapidated building located just 400 metres from the site of the collapsed PG structure. The building, which appears severely damaged with fallen grills and makeshift iron pipe supports, is at risk of collapse at any moment pic.twitter.com/JvVQ7tFC9g
— IANS (@ians_india) September 7, 2026
নিরাপদ নয় এমন বাড়িগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন উপ-রাজ্যপাল। তিনি দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং সংকট মোকাবিলার জন্য দিল্লি বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (DDMA) অধীনে একটি জরুরি ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেন। এছাড়াও, পিজি আবাসন সংক্রান্ত নিয়মাবলী পর্যালোচনার জন্য নগরোন্নয়ন মন্ত্রীকে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন এলজি। এই কমিটিকে বিশ্ববিদ্যালয়, এমসিডি এবং দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (DDA) মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা খুঁজে বের করতেও বলা হয়েছে।
এই ঘটনার পরেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেন। তিনি এমসিডি-র পাঁচজন সিনিয়র আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন। তারা হলেন সাউথ জোনের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ কুমার, সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার রণবীর সিং, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (বিল্ডিং) ললিত কুমার গোয়েল, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (বিল্ডিং) সুনীল চৌহান এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (বিল্ডিং) আশিস কুমার। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেন এবং বলেন, এই ঘটনায় দায় এড়ানো যাবে না।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেন, “সরকার পুরসভার সঙ্গে মিলে এমন একটি নীতি আনছে, যেখানে যে কোনও পাবলিক বিল্ডিং—সেটা পিজি হোক, নার্সিংহোম বা স্কুল—তার সেফটি সার্টিফিকেট নিতেই হবে। নাহলে সেখানে কোনও পাবলিক কার্যকলাপ চলতে দেওয়া হবে না। আমরা কাউকে অনিরাপদ পিজিতে থাকতে দেব না। যে পড়ুয়াদের সরানো হয়েছে, তাদের জন্য কলেজের হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং সবরকম সাহায্য করছি। যে সরকারি আধিকারিকদের গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আজই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে; কাউকে ছাড়া হবে না।” পাশাপাশি এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত এমসিডি-কে সর্বোচ্চ স্তরে তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছে যে, ওই বাড়িটি বৈধ অনুমতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল কিনা। আদালত গাফিলতির জন্য দায়ী আধিকারিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে বলেছে।
#WATCH | Delhi: Search and rescue operations are underway in South Delhi's Satya Niketan area following a building collapse that claimed six lives. pic.twitter.com/nF5Db2YENw
— ANI (@ANI) September 7, 2026
ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হাইকোর্ট এক সপ্তাহের মধ্যে এমসিডি-কে তার অধীনস্থ সমস্ত পিজি এবং হোস্টেলের অডিট করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত মন্তব্য করেছে, এই ধরনের ঘটনার দায় শুধু বাড়ির মালিকের উপর চাপালে চলবে না, সরকারি সংস্থাগুলিকেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বেঞ্চের মতে, এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য হোস্টেলের অভাব এবং বেসরকারি পিজিগুলির নিয়মকানুন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রশাসন ভেঙে পড়া বাড়ির পাশের বিল্ডিংগুলিকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য লোহার জ্যাক লাগিয়েছে। এদিকে, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (MCD) সত্য নিকেতনের ১৩ নম্বর সম্পত্তিটিকে 'বিপজ্জনক' ঘোষণা করে তিন দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। আশেপাশের বেআইনি পিজি এবং বিল্ডিংগুলির বিরুদ্ধেও তল্লাশি ও সিল করার অভিযান শুরু হয়েছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।