
মধ্য দিল্লিতে শুক্রবার 'লহরা দো তেরঙ্গা' মিছিল ঘিরে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়ায়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন তারা প্রায় ১৫০ জনকে আটক করেছে।
আম আদমি পার্টির (AAP) নেতা-কর্মীরা কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের বাইরে তেরঙ্গা র্যালি বের করেন। একই সময়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাম দলগুলো মান্ডি হাউসের কাছে বিক্ষোভ দেখায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তারা সরব হন। বিক্ষোভকারীরা মূলত ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
দিল্লি পুলিশের দাবি, এই মিছিলের জন্য কেউ কোনও সরকারি অনুমতি নেয়নি। তাছাড়া কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের মতো সংরক্ষিত এলাকায় বড় জমায়েতের ওপর প্রশাসন আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন দিল্লি পুলিশ এবং সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (CAPF) ৬ হাজারেরও বেশি জওয়ান মোতায়েন করে। পুলিশ মিছিল শুরুর আগেই বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখকে আটক করে। এনসিপি-এসসিপি মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের বাড়ি থেকে পুলিশ সিজেপি কর্মী অভিজিৎ দিপকে-কে আটক করে।
আটকের সময় এক পুলিশ আধিকারিক অভিজিৎকে বলেন, “আমরা আপনাকে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপে আটক করছি। কনট প্লেসে ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। তাই আপনাকে আটক করা হচ্ছে।”
প্রশাসন আইনি বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে অভিজিৎকে দুটি আলাদা নোটিশ ধরিয়েছে। প্রথম নোটিশটি নয়াদিল্লি জেলা পুলিশ বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারায় দিয়েছে। এর ফলে সেন্ট্রাল পার্কে তার ঢোকার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লি জেলা পুলিশ বন্ড ভাঙার অভিযোগে দ্বিতীয় নোটিশটি দিয়েছে। এর আগে পুলিশ অভিজিৎ, আশুতোষ এবং সৌরভকে বিমানবন্দরে আটক করে আদালতে পেশ করেছিল। তারা সেসময় এক বছর শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, তারা এবার সেই শর্ত ভেঙেছেন।
এদিকে দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই পড়ুয়াদের নিরাপত্তার দিকে নজর দিয়েছেন। তিনি সাউথ ক্যাম্পাস এবং সত্য নিকেতন এলাকার আইনশৃঙ্খলা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের দলের নেতৃত্ব দেন।
স্পেশাল সিপি (আইনশৃঙ্খলা-১) নীরজ ঠাকুর, জয়েন্ট সিপি এস কে জৈন এবং ডিসিপি (দক্ষিণ-পশ্চিম) অমিত গোয়েল পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে ছিলেন।
শীর্ষ আধিকারিকরা এলাকায় টহলদারির তদারকি করেন। তারা সরাসরি পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিশেষ করে পিজি ও হস্টেলে থাকা ছাত্রীদের নিরাপত্তার অভাব অভিযোগ শোনেন।
পুলিশ কমিশনার পড়ুয়া অধ্যুষিত এই এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এবং পুলিশি নজরদারি বাড়াতে স্থানীয় থানাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।