প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বই ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। বিভিন্ন অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং নিউজ ফোরামে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে 'ফোর স্টারস অফ ডেসটিনি' বইটির একটি প্রি-প্রিন্ট কপি প্রচারিত হচ্ছে। আরও জানা গিয়েছে যে, এই বইটি প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন এখনও পাওয়া যায়নি।
যাচাই করে দেখা গিয়েছে যে, একই শিরোনামের একটি টাইপ-সেট করা বইয়ের পিডিএফ কপি কিছু ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে এবং কিছু অনলাইন মার্কেটিং প্ল্যাটফর্মে বইটির সম্পূর্ণ প্রচ্ছদ এমনভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে যেন সেটি কেনার জন্য উপলব্ধ। বইটি সম্ভবত পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড দ্বারা ছাপা হয়েছে। অনুমোদনহীন এই এই বইটির কথিত ফাঁসের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্য স্পেশাল সেলে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রকাশিত না হওয়া একটি কাজের সম্ভাব্য লঙ্ঘন এবং অননুমোদিত প্রচারের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে, স্পেশাল সেলে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ফাঁসের উৎস ও লঙ্ঘনের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য একটি বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
‘ফোর স্টারস অফ ডেসটিনি’
‘ফোর স্টারস অফ ডেসটিনি’ হল জেনারেল নারাভানের ভারতীয় সেনাবাহিনীতে প্রায় চার দশকের চাকরির ঘটনাবলী নিয়ে লেখা একটি স্মৃতিকথা, যেখানে একজন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থেকে সেনাপ্রধান পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথ তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে ১৯৬২ সালের সংঘাতের পর চিনের সঙ্গে ভারতের সবচেয়ে গুরুতর সামরিক অচলাবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন কেন্দ্রীয় বাজেটের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব পেশ করতে যাচ্ছিলেন, তখন লোকসভার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জেনারেল নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার উপর ভিত্তি করে লেখা একটি ম্যাগাজিনের রিপোর্টের কিছু অংশ পাঠ করার পরেই এই ঘটনা ঘটে। যদিও গান্ধী মাত্র কয়েক মিনিট কথা বলেছিলেন, তাঁর মন্তব্যে বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সংসদ চত্বরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে বইটির একটি কথিত কপি হাতে দেখাতে দেখা যাওয়ার এক সপ্তাহ পর এই ঘটনাটি ঘটল। এই বিষয়টি নিয়ে একটি রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যার ফলে লোকসভার কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং বাজেট অধিবেশনের বাকি অংশের জন্য আটজন সংসদ সদস্যকে এই ইস্যুতে সাসপেন্ড করা হয়।