সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়, ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ'-এর হয়ে কাজ করা এক ভারতীয় গুপ্তচরকে বাহারাইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারত সরকার এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। PIB-র ফ্যাক্ট চেক টিম জানিয়েছে, এই খবর পুরোপুরি ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন। 

ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ'-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগে বাহারাইনে এক ভারতীয় গুপ্তচরকে গ্রেফতার করা হয়েছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই গুজবকে সরাসরি খারিজ করে দিল ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীনস্থ প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-র ফ্যাক্ট চেক টিম জানিয়েছে, এই খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর কোনও ভিত্তি নেই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভাইরাল পোস্ট 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বাহারাইনে টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত 'নীতিন মোহন' নামের এক ভারতীয়কে সেখানকার কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করেছে। পোস্টে আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি নাকি ইজরায়েলের মোসাদ এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন এবং বাহারাইনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির ছবি, ভিডিও এবং ভৌগোলিক তথ্য বিদেশি সংস্থাকে পাচার করছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছিল, নীতিন মোহন মূলত ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করতেন। তিনি একাধিক তথ্য মোসাদকে দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, এই ভুয়ো খবরের সঙ্গে একটি ছবিও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বাহারাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতো দেখতে একটি ব্যাকড্রপের সামনে এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) স্পষ্টীকরণ

এই বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের ফ্যাক্ট চেক ইউনিট জানিয়েছে, "বাহারাইনে ভারতীয় গুপ্তচরকে গ্রেফতার এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনার খবরটি পুরোপুরি মিথ্যা"। সরকার সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের ভুল তথ্য শুধু অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কই ছড়ায় না, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও আঘাত হানতে পারে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

Scroll to load tweet…

সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের আবেদন

আধিকারিকরা সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছেন, এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করে নিতে। এডিট করা ছবি এবং বিভ্রান্তিকর লেখা দিয়ে এই ধরনের পোস্টগুলিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়। তাই সঠিক তথ্যের জন্য শুধুমাত্র PIB, বিদেশ মন্ত্রক বা অন্যান্য সরকারি সূত্রের উপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।