
দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলন ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
NEET-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহির দাবিতে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বিস্তৃত সংস্কার।
ইস্তফার খবর দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, "দেশের ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে শিক্ষা সংস্কারের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনর্গঠনে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।"
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে সামিল হন। পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ, স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। এই ইস্যুতে সংসদেও তুমুল বিতর্ক হয় এবং বিরোধী দলগুলিও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলে।
এর আগে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন শেষ করেন সরকারের লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর। তবে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরেও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং অন্যান্য দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এখন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের নতুন নেতৃত্ব কে নেবেন এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই নজর দেশের ছাত্রছাত্রী ও রাজনৈতিক মহলের।