Dharmendra Pradhan Resigns: ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতার কাছে এবার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হল কেন্দ্রীয় সরকার (Dharmendra Pradhan Resigns)। পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কার্যত, নজিরবিহীন। নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার নেপথ্যে পাঁচ কারণ কী কী? প্রথমত আন্দোলনের তীব্রতা। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সেই কাণ্ডের জেরে একাধিক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদ শুরু হয় (Cockroach Janata Party protest)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন দাবানলের চেহারা নেয়। আর চাপে পড়তে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাবিনেট মিনিস্ট্রি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-যুব এবং সাধারণ মানুষরা যন্তর মন্তরে গিয়ে এই প্রতিবাদে শামিল হতে শুরু করেন। ক্রমশই ভিড় বাড়তে থাকে দেশের রাজধানীতে।এমনকি, অনেকে খাবারের প্যাকেট এবং পানীয় জল পাঠিয়েও এই প্রতিবাদের পাশে দাঁড়ান। দলে দলে মানুষ বিক্ষোভে শামিল হন এবং যা ছড়িয়ে যায় বিদেশেও (cjp protest live)। কার্যত, দেখে মনে হচ্ছিল যেন, দেশের ছাত্র-যুব সমাজের বুকের মধ্যে জমে থাকা বারুদের বিস্ফোরণ! বিজেপি বিরোধী জোটের একাধিক নেতাও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন। বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনও শামিল হয় এই আন্দোলনে। পাঞ্জাব থেকে কৃষকরাও পৌঁছে যান দিল্লিতে।
এমনকি, দেশের নানা প্রান্তে সেই প্রতিবাদকে সংহতি জানিয়ে শুরু হয় মিছিল এবং একাধিক কর্মসূচি। শুধু তাই নয়, সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং প্রাক্তন সেনা আধিকারিক সহ বহু সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনকে সমর্থন করতে শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। এমনকি, দেশের নানা মেট্রো সিটিতেও একেকটি মিছিল বিরাট আকার ধারণ করে। কলকাতাতেই শুক্রবারের মিছিলে কার্যত, জনসমুদ্র দেখা যায়। ফলে, আন্দোলনের তীব্রতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। যা সরকারের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই দেশব্যাপী তৈরি হওয়া এই অসন্তোষ ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার নেপথ্যে একটি বড় কারণ। যার সুবাদে দেশের ছাত্র-যুব সমাজের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইল বিজেপি।
অন্যদিকে, একটানা দীর্ঘ আন্দোলন, ককরোচ জনতা পার্টির নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকা, সোনম ওয়াংচুকের মতো একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীর লাগাতার অনশন ও অসুস্থ হয়ে পড়া, তাঁকে পুলিশ দিয়ে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং লাঠিচার্জ করা সঙ্গে ছাত্র মিছিলে কাঁদানে গ্যাস! এই সবকিছুই কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে। যার ফলে, কিছুটা বাধ্য হয়েই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সরকারকে। এমনটাই মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি কিছু শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা জনরোষকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই সম্ভবত আর কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি কেন্দ্রীয় সরকার।
তাছাড়া নিজের পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু মানুষ পরিস্থিতি জটিল করার এবং পড়ুয়াদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাই তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। সেইসঙ্গে, দেশের ঐক্য বজায় রাখতে এবং কোনও স্বার্থান্বেষী মহল যেন এই পরিস্থিতির সুযোগ না নিতে পারে, সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।