
কাশি, সর্দি বা জ্বরের সিরাপ কিনতে এবার আর সরাসরি ওষুধের দোকানে গেলেই হবে না। দেশের সমস্ত ধরনের ওষুধের সিরাপ কিনতে এখন থেকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। মঙ্গলবার, ১৬ জুন থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কফ সিরাপ-সহ সব ধরনের ঔষধি সিরাপ আর ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) হিসেবে বিক্রি করা যাবে না। অর্থাৎ চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শ ছাড়া কোনও ফার্মেসি বা ওষুধের দোকান থেকে এই ধরনের সিরাপ কেনা যাবে না।
১৯৪৫ সালের ড্রাগস রুলস-এ সংশোধন এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে কিছু সাধারণ ওষুধ ও ঘরোয়া ব্যবহারের ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রির অনুমতি ছিল। নতুন নিয়মে সেই তালিকা থেকে 'সিরাপ' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, সিরাপের অপব্যবহার, নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা এবং নিম্নমানের বা দূষিত সিরাপ ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতেই এই পদক্ষেপ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ব্যবহৃত কাশি ও জ্বরের সিরাপ নিয়ে অতীতে একাধিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালে বিষাক্ত উপাদান মিশ্রিত কফ সিরাপের কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসে। তারপর থেকেই কঠোর নিয়মের দাবি উঠছিল।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র নথিভুক্ত চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন দেখিয়েই সিরাপ কেনা যাবে। ওষুধ বিক্রেতাদেরও এই নির্দেশ কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে কাশি বা সর্দির জন্য ব্যবহৃত অনেক ট্যাবলেট, লজেন্স বা বড়ি এখনও প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যেতে পারে। নতুন নিয়ম মূলত তরল বা সিরাপ জাতীয় ওষুধের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ রোগীদের নিরাপত্তা আরও বাড়াবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সিরাপ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।