
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ECI) স্পষ্ট জানিয়ে দিল, বিকেল ৪টে পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলই তাদের কাছে সাক্ষাতের জন্য সময় চায়নি। এর আগে নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল করে যান।
বিরোধীদের এই বিক্ষোভের পর একটি বিবৃতি দেয় কমিশন। সেখানে তারা জানায়, বিকেল ৪টে নাগাদ দিল্লি পুলিশ তাদের খবর দেয় যে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে প্রায় ২৪০ জন সাংসদের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে চান। তাঁরা সংসদ ভবনের অ্যানেক্সে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে চান বলেও জানানো হয়।
কমিশনের মতে, তাদের যে নির্দিষ্ট প্রোটোকল রয়েছে, সেই অনুযায়ী এই বৈঠকের জায়গা এবং যেভাবে সময় চাওয়া হয়েছে, তা বেশ 'অস্বাভাবিক'।
ইসিআই তাদের বিবৃতিতে বলেছে, "আজ সকালে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিল করার সময় সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে জানা যায় যে, কয়েকজন সাংসদ তাঁদের প্রতিনিধি দল নিয়ে কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চান। আজকের এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, আজ বিকেল ৪টে পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলই তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য কোনও সময় চায়নি।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "এরপর বিকেল ৪টে নাগাদ দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে খবর আসে যে, বিরোধী দলনেতা শ্রী রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিতে চান।"
নির্বাচন কমিশন জানায়, এরপর তারা বিরোধী সাংসদদের কাছ থেকে স্মারকলিপি নেওয়ার জন্য তাদের সবচেয়ে সিনিয়র আধিকারিককে সেখানে পাঠানোর কথা ভেবেছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের নিয়মকানুন নিয়ে কমিশন জানায়, ২০২৫ সালেই তারা এই প্রোটোকল তৈরি করেছিল এবং সব রাজনৈতিক দলকে সে বিষয়ে জানিয়েও দেওয়া হয়েছিল।
"২০২৫ সালে ভারতের নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের জন্য একটি নিয়ম চালু করে। সব রাজনৈতিক দলকে সেটা জানানো হয়েছিল এবং তারা এই নিয়ম মেনেই চলে। যখনই কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি দল বা একাধিক দলের যৌথ প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চায়, তখন তারা তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সময় চায়। এরপর দু'পক্ষের সুবিধামতো সময়ে বৈঠক হয়।"
কমিশন জানায়, বিকেল ৪টের পর যখন তারা এই অনুরোধ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছিল, তখন দিল্লি পুলিশ জানায় যে প্রতিনিধি দলে প্রায় ২৪০ জন সাংসদ রয়েছেন এবং বৈঠকের জায়গা হিসেবে সংসদ ভবনের অ্যানেক্সের কথা বলা হয়েছে।
ইসিআই আরও জানায়, "আজ বিকেল ৪টের পর, যখন নির্বাচন কমিশন সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাবটি বিবেচনা করছিল, তখন দিল্লি পুলিশের ডিসিপি জানান যে ২৪০ জন সাংসদের একটি দলের সঙ্গে বৈঠকটি চাওয়া হয়েছে এবং জায়গা হিসেবে সংসদ ভবনের অ্যানেক্সের কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই অনুরোধটিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেছে। তাই এটি মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, ইসিআই-এর প্রোটোকল অনুযায়ী, এই ধরনের বৈঠক শুধুমাত্র ভারতের নির্বাচন কমিশনের অফিসেই হয়ে থাকে।"
কমিশন জানায়, তারা স্মারকলিপি নেওয়ার জন্য তাদের ডিউটিতে থাকা সবচেয়ে সিনিয়র আধিকারিককে ওই জায়গায় পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। এই প্রস্তাবকে তারা একটি 'নজিরবিহীন পদক্ষেপ' বলেও উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, "ইসিআই প্রস্তাব দিয়েছিল যে সাংসদদের স্মারকলিপি নেওয়ার জন্য ডিউটিতে থাকা সবচেয়ে সিনিয়র আধিকারিককে বৈঠকের জায়গায় পাঠানো যেতে পারে, যা নিজেই একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হতো। তবে সাংসদরা এই প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন। ইসিআই দেশের সংসদীয় ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করে। পাশাপাশি নিজেদের প্রোটোকল ও রীতিনীতিকেও সমান গুরুত্ব দেয়। যে কোনও রাজনৈতিক দল যে কোনও সময় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করতে পারে। আর কমিশন সময়ের সুবিধা বুঝে বৈঠকের দিন ও সময় ঠিক করে। এটাই সাধারণ নিয়ম।"
আজ এর আগে, নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর নির্বাচন সদনের দিকে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি বিরোধী দলের নেতাদের আটকে দেওয়া হয়। এরপরই আকাশবাণী ভবনের সামনে ধর্নায় বসেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা।
পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। বিরোধীদের ডাকা 'গণতন্ত্র বাঁচাও' (Save Democracy) কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই বিক্ষোভ দেখানো হয়। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মাঝেই ইসিআই-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও জনসভা করছেন বিরোধী নেতারা। রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে, প্রায় ৩০০ জন বিরোধী সাংসদ তাঁদের প্রশ্নগুলো তুলে ধরতে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, "৩০০ জন বিরোধী সাংসদকে ওখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই আমি এখানে এসে বসেছি। আমরা শুধু জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমরা সবাই লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী সাংসদ, আর আমরা শুধু তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। জানি না কেন নির্বাচন কমিশন আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছে না। কোটি কোটি মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন। আমরা শুধু প্রশ্ন করতে চাই, কিন্তু ওরা উত্তর দিতে চাইছে না।"