
ED Arrests Minister: আম আদমি পার্টি শাসিত পঞ্জাবে ফের বড়সড় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। খোদ রাজ্যের মন্ত্রীকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শনিবার সকালে পঞ্জাবের শিল্প ও বিদ্যুৎমন্ত্রী সঞ্জীব অরোরা (Sanjeev Arora)-কে ঘিরে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। অর্থ পাচার মামলার তদন্তে এই অভিযান ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, চণ্ডীগড়, দিল্লি এবং গুরুগ্রামের মোট পাঁচটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। চণ্ডীগড়ের সেক্টর-২ এলাকায় অবস্থিত সঞ্জীব অরোরার সরকারি বাসভবনেও পৌঁছয় তদন্তকারী দল। পাশাপাশি গুরুগ্রামে তাঁর সঙ্গে যুক্ত একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার অফিস ও অন্যান্য সম্পত্তিতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই তদন্ত চলছে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন বা PMLA-র আওতায়। অভিযোগ, ভুয়ো জিএসটি ইনভয়েসের মাধ্যমে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ১০০ কোটিরও বেশি টাকার মোবাইল ফোন কেনাবেচার নামে জাল লেনদেন দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুয়ো ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে। ইডির সন্দেহ, এই মামলায় দুবাই-সহ বিদেশি উৎস থেকে টাকার লেনদেন এবং 'রাউন্ড ট্রিপিং'-এর মতো আর্থিক কারসাজিও হয়েছে। তল্লাশি চলাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেগুলি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সঞ্জীব অরোরার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম ইডি অভিযান নয়। এর আগেও ২০২৪ সালে একটি আলাদা অর্থ পাচার ও তছরুপ মামলায় তাঁর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয়বার ইডির মুখোমুখি হলেন তিনি। সঞ্জীব অরোরা হলেন আপ বিধায়ক এবং লুধিয়ানা পশ্চিম কেন্দ্রের জনপ্রতিনিধি। বর্তমানে তিনি পঞ্জাব মন্ত্রিসভায় শিল্প ও বিদ্যুৎ দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এই নতুন তদন্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান ইতিমধ্যেই ইডির এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে। কেজরিওয়ালের দলের দাবি, বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কোনও গ্রেফতারের খবর সামনে আসেনি। ইডির তরফেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামী দিনে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলিও গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। পঞ্জাব সরকার জানিয়েছে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।