
El Nino Effect: এল নিনোর প্রভাবে এবার বর্ষায় তেমন বৃষ্টি হয়নি। ফলে আগামী দিনে চাষবাস ও পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী হায়দরাবাদে যাতে পানীয় জলের কোনও ঘাটতি না হয়, তার জন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। জলাধারগুলোতে জলের পরিমাণ সবসময় নজরে রাখার পাশাপাশি সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) বা বর্জ্য জল শোধন কেন্দ্রগুলো যাতে পুরো মাত্রায় কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি। শোধন করা জল যাতে বাড়ি তৈরি, পার্ক এবং রাস্তা পরিষ্কারের মতো কাজে ব্যবহার করা যায়, সেই ব্যবস্থাও নিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
হায়দরাবাদ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ, বর্জ্য জল শোধন কেন্দ্র তৈরি এবং শোধন করা জলের ব্যবহার নিয়ে বুধবার একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। এমসিআরএইচআরডি (MCRHRD) বোধি প্যাভিলিয়নে আয়োজিত এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এল নিনোর প্রভাবের কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতের জলের চাহিদা মেটাতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শহরে পানীয় জল সরবরাহে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকে আধিকারিকদের সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি। পাশাপাশি জলাধারগুলোতে জলের মজুত নিয়মিত পরীক্ষা করারও নির্দেশ দিয়েছেন।
কিওর (CURE) এলাকার বর্জ্য জল শোধন কেন্দ্রগুলো যাতে পুরোপুরি কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কেন্দ্রগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে এবং শোধন করা জলের মানের ক্ষেত্রে কোনও আপস করা চলবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।
প্রতিটি এসটিপি-তে একজন করে বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে। সব শোধন কেন্দ্রকে কম্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত করে সবসময় নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্ল্যান্টগুলো কেমন কাজ করছে, তা হাইড্রা (HYDRA)-কে নিয়মিত খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এসটিপি চালানোর জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে রেডকো (REDCO) আধিকারিকদের পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শহরে শোধন করা জলের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। বাড়ি তৈরির কাজে ট্রিটেড ওয়াটার বা শোধন করা জলই ব্যবহার করতে হবে, এই নিয়ম কড়াকড়িভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়ম মানার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়েছেন।
বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও বর্জ্য জল শোধন কেন্দ্র তৈরিতে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। ডেটা সেন্টারগুলোতেও যাতে শোধন করা জল সরবরাহ করা যায়, সেই ব্যবস্থা নিতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন।
শোধন করা জল শুধু দু-একটা ক্ষেত্রে আটকে না রেখে, বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সচিবালয়, মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় (সিএমও), আউটার রিং রোড, মেট্রো রেলের পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি অফিসে গাছপালার পরিচর্যায় এই জল ব্যবহার করতে বলেছেন তিনি।
সাধারণ পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাস্তা পরিষ্কারের মতো কাজেও শোধন করা জল ব্যবহার করতে হবে। সরকারের ধারণা, এর ফলে পানীয় জলের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি মজুত থাকা জলের আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
শোধন করা জল সরবরাহকারী ট্যাঙ্কারগুলোর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে বিশেষ ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ট্রিটেড ওয়াটার ব্যবহারের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। মানুষ যাতে সহজেই এই জল পেতে পারেন, তার জন্য একটি বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর চালু করতে বলেছেন।
শোধন করা জলের সরবরাহ এবং ব্যবহার নিয়ে মানুষের কাছে যাতে দরকারি সব তথ্য থাকে, সেই ব্যবস্থা নিতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই ব্যবস্থাগুলো যাতে ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জল পর্ষদের আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, বর্তমানে ২৬টি বর্জ্য জল শোধন কেন্দ্র থেকে গ্রিন ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে শোধন করা জল সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্রাহকদের এই জল বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে, শুধু ট্যাঙ্কারের যাতায়াতের খরচটুকু নেওয়া হচ্ছে বলে আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিকে জানিয়েছেন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।