
Election Commission of India: একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। ৯৭টি নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করতে হবে! সাতদিনে ৮টি ইমেইল করেন গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। কিন্তু উল্টোদিক থেকে কোনও উত্তর আসেনি বলে অভিযোগ। তবে এক্ষেত্রেও অভিযোগ সেই সীমা খান্নাকে ঘিরেই। যিনি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেলের পদে দায়িত্বে রয়েছেন (Election Commission of India)। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর নতুন একটি প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এসআইআর-পর্বে গত ২১ ফেব্রুয়ারি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল গোয়ায়। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম ছিল না ঐ ৯৭ জনের। কিন্তু সেই তালিকা প্রকাশের মাত্র চারদিন আগে এই ৯৭ জনের নাম ঢোকানোর জন্য অষ্টম ইমেইলটি করেেন গোয়ার সিইও। আর সেই ইমেইলের প্রতিলিপি পৌঁছে গেছিল গোয়ার নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী এবং সীমা খান্নার কাছে।
জানা যাচ্ছে, এই ৯৭ জনের নামই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি-র তালিকায় ছিল। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, সুপ্রিম কোর্ট এই তালিকায় থাকা ভোটারদের নতুন করে নথিপত্র জমা দেওয়া অথবা আবেদন জানানোর জন্য দশদিন সময় দেয়। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশের পর, গোয়ার ৬৪৯ জন ভোটার নথি পেশ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আর্জি জানান। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি আবেদনের নিষ্পত্তি করেন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক কিংবা ইআরও-রা। তারপরেই এই ৯৭ জনের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত আসে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী আধিকারিকেরা এই ৯৭ জনের নামের ক্ষেত্রেই ছাড়পত্র দেন। কিন্তু তারপরেও কমিশনের ইসিআইনেট সফ্টওয়্যারে সেগুলিকে ঢোকানো হয়নি। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩-১৮ ফেব্রুয়ারি, এই সময়ের মধ্যে মোট ৮টি ইমেইল পাঠানো হয়। অর্থাৎ, সীমার খান্নার দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তরফ তেকে কোনও উত্তর আসেনি। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, এই ৯৭ জনের নাম গোয়ার ভোটার তালিকায় ওঠানোই হয়নি। এমনকি, এই ৯৭ জনের নাম তোলার জন্য ইআরও-রা নির্দিষ্ট সফ্টওয়্যার পর্যন্ত, ব্যবহার করতে পারেননি। তার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সফ্টওয়্যারটি খোদ দিল্লি থেকে পরিচালনা করা হচ্ছিল।
সেই প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে যে, সফ্টওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কমিশনের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সীমাকে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে বলা হয়, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে বাধা দিতে পারে না। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অনুসরণ করার জন্য ব্যবস্থা করা হোক।” এই প্রসঙ্গে গোয়ার সিইও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, “তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য যে ভোটাররা বিবেচিত হয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে থেকে যাদের নাম ওঠার কথা, তাদের বিষয়ে কমিশনকে জানানো হয়েছে। ইআরও পর্যায়ে নাম পুনরায় নথিভুক্ত করার বিষয়ে কিছু পদ্ধতি রয়েছে।” কিন্তু ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদন বলছে, দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সাঁধু এবং বিবেক জোশী গত নভেম্বর মাস থেকে অগাস্ট পর্যন্ত, তাদের নিজস্ব নোটে একাধিকবার ভোটার তালিকার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীকরণ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেছেন। নাম নথিভুক্ত করার সফ্টওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ যে ইআরও-দের হাতে নেই, সেটাও জানানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে গত অগাস্ট মাসে সাঁধু লেখেন, “ইআরও, ডিইও এবং সিইও-রা ইআরওনেট পোর্টালে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন না।”
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।