
সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। সন্ত্রাসবাদকে কখনওই ন্যায্য বলে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বিশ্বশান্তির জন্য এই বিপদ মোকাবিলায় সব দেশকে একজোট হতে হবে। এমনই বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রবিবার নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জয়শঙ্করের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ বিশ্বশান্তির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাষ্ট্রীয় কৌশল বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। কোনও পরিস্থিতিতেই এই ধরনের কার্যকলাপকে যুক্তি দিয়ে সমর্থন করা যায় না। তিনি বলেন, বিশ্বের সমস্ত দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে কঠোর অবস্থান নেয় না বলেই এই বিপদ এখনও থেকে গিয়েছে। ইতিহাস থেকে বহু শিক্ষা পাওয়া সত্ত্বেও কিছু দেশ এখনও রাজনৈতিক হিসাবনিকাশকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম না করেই এই মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে আরও স্পষ্ট সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদের সমস্ত রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আন্তর্জাতিক মহলকে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা সংঘাতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। তাঁর কথায়, শান্তি অবিভাজ্য। বিশ্বের কোনও একটি প্রান্তে যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব অন্যত্রও পড়তে পারে। ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতির সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। জয়শঙ্করের মতে, যুদ্ধ ও হিংসার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনেও। তাই বিশ্বশান্তি রক্ষায় সব দেশের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
রাষ্ট্রসংঘের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বড় অংশের দেশকে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা উচিত নয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংকটের মোকাবিলায় রাষ্ট্রসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর জোর দেন জয়শঙ্কর। সব মিলিয়ে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনওরকম আপস না করা, আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানে কূটনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো—এই তিনটি বিষয়কেই নিজের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।