20 rupee coin: সাবধান! বাজারে ছড়িয়েছে ৭০ কোটির ২০ টাকার জাল কয়েন, এই ৪ উপায়ে চিনুন আসল কয়েন

Published : Nov 03, 2026, 04:04 PM IST

20 rupee coin: ২০ টাকার জাল কয়েনের বিশাল চক্র ধরা পড়েছে সাহারানপুরে। ধৃতদের দাবি, ৭০ কোটি টাকার নকল কয়েন বাজারে ছড়িয়েছে। আপনার কাছের কয়েনটি আসল কি না, আকার, ওজন, ধাতু ও নকশা দেখে চিনে নিন সহজেই।

PREV
18
৭০ কোটি টাকার জাল কয়েন ছড়িয়েছে দেশজুড়ে

২০ টাকার জাল কয়েন তৈরি করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি বড় চক্র ধরা পড়েছে। ধৃতদের দাবি, তাঁরা প্রায় ৭০ কোটি টাকার জাল কয়েন বাজারে ছেড়েছেন। এত টাকা জমাতে ২০ টাকার সাড়ে ৩ কোটি কয়েন লাগে, অর্থাৎ হিসেবটা ঠিক হলে কয়েনের সংখ্যা বিপুল। পুলিশ এখনও এই অঙ্ক যাচাই করতে পারেনি। তবে চক্রটি হরিয়ানা, দিল্লি, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে ছড়িয়ে ছিল বলে জানা গিয়েছে।

28
স্ক্রু ড্রাইভার তৈরির আড়ালে চলছিল কয়েন ঢালাই

হরিয়ানার সোনিপতে প্রায় ১০ মাস ধরে একটি ইউনিট চালাচ্ছিল দলটি। বাইরে থেকে মনে হত সেখানে স্ক্রু ড্রাইভার তৈরি হয়, আসলে বানানো হত ২০ টাকার নকল কয়েন। পুলিশের দাবি, দলটি দিল্লি-সহ দেশের নানা জায়গায় যন্ত্র বসিয়েছিল। পুলিশি অভিযানের আশঙ্কা হলেই তারা জায়গা বদলে ফেলত।

38
১৩ সেপ্টেম্বর সাহারানপুরে ধরা পড়ল পাঁচজন

এক চরের খবরের সূত্র ধরেই এগোয় পুলিশ। তিনি জানান, তিনজন সন্দেহজনক ব্যক্তি প্রায় ৫০০ বর্গফুটের একটি জায়গা খুঁজছেন, সেখানে ভারী যন্ত্র বসানোর জন্য। সেই সূত্রে তীতরোঁ এলাকায় তিনজন ধরা পড়েন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আরও দুজন কাছেই দুটি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছেন। পুলিশ তাঁদেরও গ্রেফতার করে। গাড়ি থেকে মেলে ছয়টি ভারী যন্ত্র, ৬৪০০টি জাল ২০ টাকার কয়েন (মূল্য ১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা) এবং প্রায় ৫ লক্ষ টাকার অর্ধসমাপ্ত কয়েন।

48
কীভাবে বানানো হত নকল কয়েন

পুলিশকে ধৃতরা জানিয়েছে, দিল্লির একটি কারখানা থেকে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও নিকেলের মিশ্রণে তৈরি কয়েন-আকৃতির রিং আনা হত। অন্য একটি কারখানা থেকে ২০ টাকার নকশা নকল করা বিশেষ ছাঁচ বানিয়ে নেওয়া হত। ছাঁচ দিয়ে রিংয়ে চাপ দেওয়ার পর যন্ত্রে ঘষে কয়েনকে চকচকে ও নিখুঁত গোলাকার করা হত, যাতে আসলের মতো দেখায়। অভিযানে মিলেছে ৫৯টি ছাঁচ, পলিশিং মেশিন, গ্রাইন্ডিং স্টোন, হাতুড়ি-রেঞ্চ-ফাইল-ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স-সহ নানা সরঞ্জাম। ধৃতদের দাবি, একেকটি কয়েন বানাতে খরচ হত ৫ থেকে ৬ টাকা এবং দিনে ১০ থেকে ১২ হাজার কয়েন তৈরি হত। যন্ত্র চালু অবস্থায় ছিল না বলে পুলিশ এটা যাচাই করতে পারেনি।

58
১০০ কয়েনের প্যাকেট, বাজারে ছাড়ত বেকার যুবকরা

চক্রটি ১০০টি করে কয়েনের প্যাকেট দালালদের হাতে তুলে দিত। ২০০০ টাকার প্যাকেট বিক্রি হত ১৬০০ টাকায়। দালালরা মূলত বেকার যুবক। তাদের বলা হত ছোট শহর, টোল প্লাজা, মদের দোকান ও গ্রামের দোকানে কয়েন চালিয়ে দিতে। পুলিশের দাবি, কয়েনগুলি যে নকল, সেটা দালালদের জানা ছিল না। তাদের বোঝানো হত, প্রচুর খুচরো জমে গেছে, তাই সেগুলি ছাড়তে চাওয়া হচ্ছে।

68
মূলচক্রী প্রাক্তন স্বর্ণকার, জেলেই তৈরি হয়েছিল নেটওয়ার্ক

পুলিশের মতে চক্রের মাথা ৬২ বছরের উপকার লুথরা। তিনি আগে স্বর্ণকারের কাজ করতেন এবং সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে নকল কয়েনকে আসলের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। তিহাড় জেলে তাঁর সঙ্গে হিমাংশুর আলাপ হয়, বাকিরাও বিভিন্ন জেলে আলাপের সূত্রে দলে আসে। উপকার আগেও দিল্লি পুলিশের হাতে জাল কয়েন বানানোর অভিযোগে ধরা পড়েছিলেন। ২০১৬ সালে দিল্লি ও হরিয়ানায় তিনটি কারখানা ধরা পড়ে, উদ্ধার হয় ১২ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার জাল কয়েন। ২০১৯ সালে ফরিদাবাদ পুলিশ হরিয়ানার বাহাদুরগড়ের একটি চক্র ধরে ৫০ হাজার ৫ টাকার জাল কয়েন উদ্ধার করে। পরে বিহারের মধুবনী থেকে আরও একজন ধরা পড়ায় এই মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা ছয় হয়েছে।

78
আসল ২০ টাকার কয়েন চিনুন আকার ও ওজনে

২০ টাকার কয়েন গোল নয়, ১২ কোনাওয়ালা বহুভুজ। দেশের একমাত্র এই কয়েনেই এই আকৃতি আছে, তাই হাতে নিয়েই প্রথম পরীক্ষা সেরে ফেলা যায়। কয়েনের ব্যাস ২৭ মিলিমিটার, সরকারি মান অনুযায়ী ওজন ৮.৫৪ গ্রাম। ২ বা ১০ টাকার কয়েনের মতো এর কিনারায় কোনও খাঁজ বা ধারি থাকে না, কিনারা মসৃণ। এই মাপের সঙ্গে না মিললে কয়েনটি সন্দেহজনক। হাতে সঠিক ওজন মাপার ব্যবস্থা থাকলে সেটাও দেখে নিতে পারেন।

88
ধাতু, নকশা আর সাল দেখে নিন, সন্দেহ হলে ব্যাঙ্কে যান

আসল কয়েন দুই ধাতুর। বাইরের রিং নিকেল সিলভারের (তামা ৬৫%, জিঙ্ক ১৫%, নিকেল ২০%), মাঝের অংশ নিকেল ব্রাসের (তামা ৭৫%, জিঙ্ক ২০%, নিকেল ৫%)। অর্থাৎ রিং আর মাঝের অংশের রং আলাদা দেখায়। একদিকে "২০" লেখা থাকে, তার ওপরে টাকার চিহ্ন। বাঁ দিকের কিনারায় শস্যদানার নকশা থাকে, যা ভারতের কৃষিপ্রধান পরিচয় বোঝায়। আর কয়েনের বাঁ প্রান্তের মাঝখানে ইংরেজি সংখ্যায় তৈরির সাল ছাপা থাকে। চক্রটি নকলকে আসলের মতো দেখাতে চেয়েছে, তাই একটি বৈশিষ্ট্য দেখে নিশ্চিন্ত না হয়ে আকার, ওজন, রং ও নকশা মিলিয়ে দেখুন। কিছু অমিল মনে হলে কয়েনটি আর কাউকে না চালিয়ে ব্যাঙ্ক বা নিকটতম থানায় জানান।

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories