
উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানি শহরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হল। শহরের একটি 'শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ' নিয়ে তাঁর মন্তব্যের জেরেই এই পদক্ষেপ। লোকসভার বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি দায়ের করেছেন ২৬ বছরের এক যুবক, যাঁর নাম অমিত কুমার।
রাহুলের বিরুদ্ধে FIR
অমিত হলদোয়ানির জওহর নগর কলোনির বাসিন্দা এবং বাল্মীকি সম্প্রদায়ের (তফসিলি জাতি) সদস্য। তিনি শ্রী রাম সেনা ধর্মার্থ সেবা ন্যাস নামে একটি সংগঠনের শীর্ষকর্তারা। ৩০ অগাস্ট রাত ১০টা ১৬ মিনিটে নৈনিতাল জেলার হলদোয়ানি থানায় এই এফআইআর (নম্বর: ০২৯৭/২০২৬) নথিভুক্ত করা হয়। ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) অমিত কুমারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ রাহুলের বিরুদ্ধে এসসি/এসটি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯-এর দুটি ধারা (৩(১)(আর) এবং ৩(১)(ইউ)) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর ১৯৬ নম্বর ধারায় মামলা করেছে। ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগে এই ধারাগুলি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৯৯ নম্বর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী অমিত কুমারের দাবি, রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। ঘটনার সূত্রপাত একটি 'শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ' ঘিরে, যেটিকে রাহুল গান্ধী 'দলিত-বিরোধী' বলে মন্তব্য করেছিলেন। গত ৮ অগাস্ট হলদোয়ানিতে কংগ্রেসের একটি জনসভার পর একটি হিন্দু সংগঠন এই যজ্ঞের আয়োজন করে।
এফআইআর-এ অমিত কুমার জানিয়েছেন, ৮ অগাস্ট কংগ্রেস হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে একটি রাজনৈতিক সভা করে। সেখানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভার পর ১১ অগাস্ট অমিত এবং তাঁর সংগঠনের সদস্যরা মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, মাঠ জুড়ে আবর্জনা এবং মদের বোতল পড়ে রয়েছে। এরপর তাঁরা মাঠ পরিষ্কার করে ওই জায়গার পবিত্রতা ফেরাতে একটি 'হবন শুদ্ধিকরণ' যজ্ঞের আয়োজন করেন।
এর কিছুদিন পর, ২৯ অগাস্ট রাহুল গান্ধী নয়াদিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠকে ওই শুদ্ধিকরণ যজ্ঞকে 'দলিত-বিরোধী' এবং 'অস্পৃশ্যতা' বলে মন্তব্য করেন। তিনি যজ্ঞে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
অভিযোগকারীর দাবি, তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিজেরাই ওই জায়গা পরিষ্কার করা এবং যজ্ঞে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী কোনওরকম খোঁজখবর না নিয়েই এই ঘটনাকে জাতিগত বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতা বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারীদেরই জাতিবিদ্বেষী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অমিতের অভিযোগ, রাহুলের এই মন্তব্যের জেরে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ ছড়িয়েছে। এতে জড়িতদের ব্যক্তিগত সম্মান, শান্তি এবং নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হয়েছে।