
অবশেষে শুরু হল কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা ২০২৬। শনিবার পুণ্যার্থীদের প্রথম দলটি সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে ভারত-চিন সীমান্ত পেরিয়ে চিনে প্রবেশ করেছে। এখান থেকেই তাঁরা পবিত্র কৈলাস মানস সরোবরের উদ্দেশে মূল যাত্রা শুরু করবেন।
সিকিমের রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুর পতাকা নেড়ে এই যাত্রার সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শেরিং থেন্দুপ ভুটিয়া এবং সিকিম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (STDC)-এর আধিকারিকরা। প্রথম দলে মোট ৪৪ জন পুণ্যার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১২ জন মহিলা। সঙ্গে রয়েছেন চারজন লিয়াজোঁ অফিসার এবং একজন মেডিক্যাল অফিসার। বিহার, হরিয়ানা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং ওড়িশার মতো বিভিন্ন রাজ্য থেকে পুণ্যার্থীরা এই দলে যোগ দিয়েছেন। যাত্রার আগে সিকিমের মুখ্যসচিব আর তেলাং সমস্ত রকম ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। পুণ্যার্থীদের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও জলের সরবরাহ, রাস্তার অবস্থা, ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট, নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং মিডিয়া কভারেজের মতো বিষয়গুলি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি জানান, যাত্রার আগে চূড়ান্ত ডাক্তারি পরীক্ষায় সব পুণ্যার্থীই পাশ করেছেন।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মন্ত্রী বলেন, "পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসার সুবিধা এবং সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করা আমাদের দায়িত্ব।" তিনি আরও জানান, এই দলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ রয়েছেন, যাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।
রাজ্যপাল সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় পুণ্যার্থীদের যাত্রার শুভেচ্ছা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুণ্যার্থীরা বাড়ি ফিরে সিকিমের আতিথেয়তার কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। পুণ্যার্থীরাও সরকারি সংস্থা এবং কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় খুব খুশি। এক পুণ্যার্থী বলেন, "যাত্রাটা দারুণ হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আমাদের জন্য সবকিছু খুব সহজ করে দিয়েছেন। আমি অধীর আগ্রহে ভগবান শিবের দর্শনের জন্য অপেক্ষা করছি।" সিকিমের পর্যটন মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার জন্য পুণ্যার্থীদের মধ্যে প্রচুর উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট/সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দুটি ভিন্ন পথে এই কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার আয়োজন করে - একটি উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস এবং অন্যটি সিকিমের নাথু লা পাস। এই যাত্রার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছর শত শত মানুষ এই যাত্রায় অংশ নেন। হিন্দুদের কাছে এটি ভগবান শিবের বাসস্থান হিসেবে পবিত্র। পাশাপাশি জৈন এবং বৌদ্ধদের কাছেও এই স্থানের ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। বৈধ ভারতীয় পাসপোর্টধারী যোগ্য নাগরিকরা ধর্মীয় কারণে এই কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে পারেন।