
Illegal Bangladeshi Arrested News: বাংলার পর এবার রাজধানী দিল্লি। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ভারতে বেআইনিভাবে থাকার অভিযোগে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক। দিল্লি পুলিশের নর্থ ওয়েস্ট ডিস্ট্রিক্টের ডেপুটি কমিশনারের অফিস থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানানো হয়েছে। মুখার্জি নগর থানার পুলিশ বেআইনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানের সময় তাদের গ্রেফতার করে।
ঘটনার সূত্রপাত একটা ছোট ঝগড়া থেকে। মুখার্জি নগর থানায় খবর আসে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোলের সময় দুজন ব্যক্তি অনর্গল বাংলায় কথা বলছিলেন। তাদের হাবভাব দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং তারা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়েই মুখার্জি নগর থানার SHO ইন্সপেক্টর রাজীব শাহ এবং মডেল টাউনের ACP সুরেশ চন্দরের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম তৈরি করা হয়। টিমে ছিলেন হেড কনস্টেবল পুনিত, পঙ্কজ, ভিনিত, কনস্টেবল বিবেক এবং ডিএইচজি কিশোর পাশি। সন্দেহভাজনদের পরিচয় এবং তারা বৈধভাবে থাকছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় এই টিমকে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে। টানা জেরার মুখে তারা জানায়, তারা দিল্লির মুখার্জি নগরের ইন্দিরা বিকাশ কলোনিতে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকছিল। তাদের সঙ্গে আরও তিনজন বাংলাদেশি সঙ্গীও ছিল।
জেরায় আরও জানা যায়, পাঁচজনই আলাদা আলাদা সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিমানে করে দিল্লি এসেছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল গ্রিসে চাকরির জন্য যাওয়ার। কিন্তু ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে তারা গ্রিস থেকে ইন্টারভিউয়ের ডাক বা চাকরির অফারের জন্য অপেক্ষা করছিল। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা দিল্লিতেই থেকে যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশিরা হলেন রহমত উল্লাহ (২৩), মহম্মদ আশরাফুল (২৩), সালমান ভুঁইয়া (২৫), মহম্মদ রাসেল (৩৭) এবং মহম্মদ রহিম মিয়া (৩৩)। তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের পারমানন্দপুরের (অরাইল-৩৪৩0) বাসিন্দা।
তদন্তে জানা গেছে, বাংলাদেশিরা প্রথমে দিল্লির বিভিন্ন হোটেলে থাকছিল। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, গণপতি বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির সাহায্যে তারা মুখার্জি নগরের ইন্দিরা বিকাশ কলোনিতে চলে আসে। এই গণপতি পশ্চিমবঙ্গের মালদা শহরের স্থায়ী বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ পেরিয়েও তাদের বেআইনিভাবে ভারতে থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। গণপতি বিশ্বাসের খোঁজে তল্লাশি চলছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধৃত বাংলাদেশিদের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (FRRO) সামনে হাজির করা হয়েছে। নিয়ম মেনে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। (ANI)
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।