
বাড়িতে রান্না করা খাবারও এখন আর সস্তা নেই। Crisil Intelligence-এর নতুন 'রোটি রাইস রেট' রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিরামিষ এবং আমিষ—দু'রকম খাবারের থালার দামই গত বছরের তুলনায় ২% করে বেড়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হল টমেটো, রান্নার তেল এবং লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) সিলিন্ডারের দাম বেড়ে যাওয়া।
Crisil-এর এই মাসিক রিপোর্টটি দেশের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম ভারতের জিনিসপত্রের দামের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। এতে চাল, ডাল, সবজি, মশলা, তেল এবং রান্নার গ্যাসের মতো জিনিসের দামের ওঠানামা সাধারণ মানুষের খরচের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা তুলে ধরা হয়। থালির দাম বাড়ার একটা বড় কারণ টমেটোর আকাশছোঁয়া দাম। রিপোর্ট বলছে, গত বছরের এপ্রিলে যে টমেটোর কেজি ছিল ২১ টাকা, এই এপ্রিলে (২০২৬) তা ৩৮% বেড়ে হয়েছে ২৯ টাকা। দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে চাষের জমি কমার কারণে উৎপাদন প্রায় ৩-৪% কমে যাওয়াই এর কারণ। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে জোগানের সমস্যার কারণে রান্নার তেল আর LPG সিলিন্ডারের দামও গত বছরের তুলনায় ৭% করে বেড়েছে, যা হেঁশেলের খরচ আরও বাড়িয়েছে।
Crisil Intelligence-এর ডিরেক্টর, পুশন শর্মা এই বিষয়ে বলেন, "আপাতত টমেটোর দামের দিকে নজর রাখতে হবে। গরমের কারণে চাষ কম হওয়ায় এবং উত্তরের রাজ্যগুলিতে তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় জুলাই-অগাস্ট মাসে এর দাম আরও বাড়তে পারে।" তবে পেঁয়াজ, আলু আর ডালের দাম কিছুটা কমায় স্বস্তিও মিলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, খরিফ মরশুমের শেষের ফসল আর রবি মরশুমের নতুন ফসল একসঙ্গে বাজারে আসায় এবং রপ্তানি কম হওয়ায় পেঁয়াজের দাম গত বছরের তুলনায় ১৬% কমেছে। রবি মরশুমের উৎপাদন ২-৩% বাড়ায় এবং কোল্ড স্টোরেজের আলু বাজারে চলে আসায় আলুর দামও ১৪% কমেছে। পাশাপাশি, তুর ডাল শুল্কমুক্ত আমদানির ফলে বাজারে জোগান ঠিক ছিল, তাই ডালের দামও ৪% কমেছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, আমিষ খাবারের দাম বাড়ার কারণ ব্রয়লার মুরগির দাম প্রায় ২% বৃদ্ধি। একটি নন-ভেজ থালির খরচের প্রায় অর্ধেকটাই আসে মুরগির মাংস থেকে। প্রচণ্ড গরমের কারণে পোলট্রিতে মুরগির মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় এবং জোগান কমে যাওয়ায় এই দাম বেড়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মাসিক হিসাবে দেখলে, এপ্রিলে নিরামিষ থালির দামে কোনও বদল হয়নি, কিন্তু আমিষ থালির দাম আগের মাসের তুলনায় ১% বেড়েছে।