Semiconductor India: একা কোনো দেশ চিপ বানাতে পারে না, ভারতের সঙ্গে হাত মেলান: বিদেশ সচিব

Published : Sep 18, 2026, 01:47 PM IST
Semiconductor India: একা কোনো দেশ চিপ বানাতে পারে না, ভারতের সঙ্গে হাত মেলান: বিদেশ সচিব

সংক্ষিপ্ত

সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬-এ এসে আন্তর্জাতিক পার্টনারশিপের ওপর জোর দিলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। তিনি সাফ জানান, 'একা কোনো দেশ চিপ তৈরি করতে পারে না'। তাই বিদেশি কোম্পানিগুলোকে শুধু ভারতে নয়, বরং ভারতের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার ডাক দিয়েছেন তিনি।

বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি শুক্রবার সেমিকন্ডাক্টর সাপ্লাই চেইন মজবুত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পার্টনারশিপের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "একা কোনো দেশ চিপ বানাতে পারে না।" তাই বিদেশি কোম্পানিগুলোকে শুধু ভারতে নয়, বরং ভারতের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মিসরি সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রথমেই ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা স্টেকহোল্ডারদের সামনে কথা বলার সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

'একা কোনো দেশ চিপ বানাতে পারে না'

মিসরি বলেন, "আমার কাছে এই অনুষ্ঠানের একটাই অর্থ। আর মঞ্চে ওঠার ঠিক আগেই আমি শব্দটা শুনছিলাম, সেটা হলো পার্টনারশিপ বা অংশীদারিত্ব। আজ আমি এটাই বলতে চাই যে কেন একা কোনো দেশ চিপ বানাতে পারে না। কীভাবে এই পার্টনারশিপ টেকসই হয় এবং যেসব কোম্পানি শুধু ভারতে নয়, ভারতের সঙ্গে মিলে কাজ করতে চায়, তাদের জন্য কী কী সুযোগ রয়েছে।"

তিনি জানান, একসময় সেমিকন্ডাক্টরকে শিল্পের একটা সাধারণ যন্ত্রাংশ ভাবা হলেও, আজ তা যেকোনো দেশের "অর্থনৈতিক ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং জাতীয় মর্যাদার" মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত দেশগুলোও যে একা পুরো সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারে না, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর কথায়, "কোনো দেশ যতই উন্নত হোক না কেন, একা এটা তৈরি করতে পারবে না। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিপগুলোর ৯০ শতাংশেরও বেশি একা তাইওয়ান তৈরি করে। কিন্তু তার জন্যও অন্য দেশে তৈরি ডিজাইন সফটওয়্যার, টুলস এবং কাঁচামালের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই চিপ হলো শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া একটা জিনিস। এই শতাব্দীতে সেই দেশগুলোই নেতৃত্ব দেবে, যারা জানে দেশে কী বানাতে হবে আর বিদেশে কাদের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে।"

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে পার্টনারশিপের কারণ

মিসরি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে পার্টনারশিপ কেন জরুরি, তা বোঝাতে গিয়ে বলেন, কোনো একটা নির্দিষ্ট দেশে ভ্যালু চেইনের সব কটি অংশ থাকে না। তাই নির্ভরযোগ্য সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই সাপ্লাই চেইন গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, "কোনো একটা জায়গায় সব কিছু পাওয়া যায় না। তাই এই শিল্পটা জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যে সম্পর্কগুলো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই সাপ্লাই চেইন তৈরি হয়েছে। আর আমি এই 'নির্ভরযোগ্য' শব্দটার ওপরই জোর দিতে চাই।"

গ্লোবাল ভ্যালু চেইন

তিনি পার্টনারশিপের প্রথম কারণ হিসেবে সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনের কাঠামোর কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ আলাদা আলাদা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। মিসরির কথায়, "প্রথমত, ভ্যালু চেইন নিজেই পার্টনারশিপ করতে বাধ্য করে। ডিজাইন ট্যালেন্ট এক দেশে, যন্ত্রপাতি অন্য দেশে, ফ্যাব্রিকেশন তৃতীয় দেশে, কাঁচামাল চতুর্থ দেশে আর অ্যাসেম্বলি হয় পঞ্চম কোনো দেশে।"

বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা

তিনি আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম কোনো এক জায়গায় আটকে থাকলে, সেখানে বৈচিত্র্য আনা দরকার। এটা কোনো সংঘাতের বিষয় নয়, বরং শিল্পের একটা ভালো দিক। "দ্বিতীয়ত, যেখানেই একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়, সেখান থেকে বেরিয়ে বৈচিত্র্য আনা উচিত। সন্দেহের বশে নয়, বরং শিল্পের স্বার্থেই এটা করা দরকার। পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝবেন, বিশ্বের বেশিরভাগ রেয়ার আর্থ প্রসেসিং এবং অ্যাডভান্সড নোড ম্যানুফ্যাকচারিং হাতেগোনা কয়েকটা দেশ, বা কখনও কখনও একটামাত্র দেশ নিয়ন্ত্রণ করে। এটা তাদের বিশেষত্বের কারণে হয়েছে, কোনো ডিজাইনের জন্য নয়," বলেন মিসরি।

তিনি আরও যোগ করেন, "যেকোনো বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী এই নীতিটা জানেন: একটা মাত্র নির্ভরযোগ্য উৎসের ওপর ভরসা করা মানে বিপদের ঝুঁকি বাড়ানো। তাই এই পরিস্থিতি এড়িয়ে চলাই ভালো। এর সঠিক উত্তর সংঘাত নয়, বরং নির্ভরযোগ্য বিকল্প তৈরি করা। আর এটাই আমার দ্বিতীয় শব্দ: নির্ভরযোগ্য।"

সরকারি সাহায্য এবং ইনসেনটিভ

তিনি সেমিকন্ডাক্টরের ক্ষমতা বাড়াতে সরকারগুলোর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই লড়াই এখন আর শুধু দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটা একটা জাতীয় প্রকল্প এবং কোম্পানিগুলোর জন্য বড় সুযোগ। তাঁর কথায়, "তৃতীয়ত, প্রযুক্তির শীর্ষে পৌঁছনোর এই দৌড় এখন একটা যৌথ জাতীয় প্রকল্প। এটা কোম্পানিগুলোর জন্য একটা সুযোগ, শুধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা নয়।"

মিসরি আমেরিকা, চিন এবং ইউরোপের সেমিকন্ডাক্টর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জানান, নিজেদের শিল্পকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে সব দেশের সরকারই কাজ করছে। তিনি বলেন, "সব জায়গার সরকারই নিজেদের শিল্পকে দৌড়ে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ নিচ্ছে। আমেরিকার চিপস অ্যাক্টের মাধ্যমে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ, দেশের ক্ষমতা বাড়াতে চিনের ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ক্ষমতার এক-পঞ্চমাংশ দখলের ইউরোপের লক্ষ্যের পেছনে এটাই আসল যুক্তি।"

"ভারতের নিজস্ব সেমিকন ইন্ডিয়া প্রোগ্রামের পেছনেও একই ভাবনা কাজ করছে। যেকোনো কোম্পানির কাছে এটা ইনসেনটিভ এবং আগ্রহী পার্টনারদের একটা বড় ক্ষেত্র। আর এটাই আমার তৃতীয় শব্দ: ইনসেনটিভ," বলেন মিসরি।

ভবিষ্যতের ইকোসিস্টেম তৈরি

তিনি ভবিষ্যতের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের ওপর টেকনিক্যাল নিয়মকানুন, সার্টিফিকেশন পদ্ধতি এবং ইন্টারঅপারেবিলিটি প্রোটোকল যে বড় প্রভাব ফেলবে, সে কথাও জোর দিয়ে বলেন। মিসরির কথায়, "যাঁরা টেকনিক্যাল নিয়ম, সার্টিফিকেশন পদ্ধতি এবং ইন্টারঅপারেবিলিটি প্রোটোকল তৈরিতে সাহায্য করবেন, তাঁরাই এমন একটা ভিত গড়ে দেবেন, যার ওপর দাঁড়িয়ে আগামী প্রজন্ম কাজ করবে।"

সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬ গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমকে একটা শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। শিল্প, সরকার, শিক্ষাক্ষেত্র এবং স্টার্টআপগুলোর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এই উদ্যোগ। ২০২৬ সালের এই ইভেন্টটা বেশ বড় পরিসরে হচ্ছে। ২০টিরও বেশি দেশ থেকে ৫০০-র বেশি কোম্পানি এতে অংশ নিয়েছে। পুরো মাইক্রোইলেক্ট্রনিক্স ইকোসিস্টেম জুড়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং সমাধানগুলো এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

TMC Symbol: 'ভোটের পর এবার দল চুরি', তৃণমূলের প্রতীক বাজেয়াপ্ত নিয়ে বিজেপি-কমিশনকে তোপ রাহুলের
IRCTC Train Cancel: অক্টোবরে প্রচুর রুটের ট্রেন বাতিল করল রেল! মাথায় হাত পুজোয় ভ্রমণকারী যাত্রীদের